১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলি হামলার মাঝে স্বস্তি খুঁজতে গাজায় সৈকতের বালুতে শিল্পীদের ভাস্কর্য

গাজায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা যুদ্ধের মধ্যে মানসিক চাপ কমাতে সীমিত সম্পদ দিয়েই নিজেদের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে ভাস্কর্য তৈরিতে শিল্পীরা বেছে নিয়েছেন সমুদ্র সৈকতকে।

ইসরায়েলি হামলার মাঝে স্বস্তি খুঁজতে গাজায় সৈকতের বালুতে শিল্পীদের ভাস্কর্য
গাজায় সৈকতের বালুতে তৈরি শিল্পকর্ম। ছবি: আল-জাজিরা

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Nov 2025, 09:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

ইসরায়েলের হামলায় গাজার উপকূলরেখা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলেও সেখানকার বালুকময় সৈকত এখনও অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছুটা স্বস্তির উৎস হয়ে আছে।

চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও মৃত্যুর ভয়াবহতা থেকে ক্ষণিকের স্বস্তি খুঁজে নিতে স্থানীয় শিল্পীরা সৈকতের বালিতে তৈরি করছেন নান্দনিক সব ভাস্কর্য।

মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টায় অক্টোবরে গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি হলেও বারবারই তা লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সেনারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

দুই বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধের মধ্যে মানসিক চাপ কমাতে নিজেদের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে সীমিত সম্পদ দিয়েই ভাস্কর্য তৈরিতে শিল্পীরা বেছে নিয়েছেন সমুদ্র সৈকতকে।

হাতের কাছে পাওয়া ছোট ব্রাশ, ভাঙা টাইলস কিংবা সৈকতে পড়ে থাকা লাঠি দিয়েই শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলছেন তাদের শিল্পকর্ম। বালিতে তাদের এই শিল্পকর্ম ক্ষণস্থায়ী। তারপরও তারা উদ্যম নিয়ে করে চলেন কাজ।

এই শিল্পকর্ম দেখতে সৈকতে ভিড় করে শিশুসহ অসংখ্য মানুষও। ভাস্কর ইয়াজিদ আবু জারাদ ও তার দল টেপ দিয়ে মাপজোখ করে সৈকতের বালিতে অক্ষর ও নকশা খোদাই করেন।

তিনি বলেন, “আমরা যখন গাজার সৈকতে শিল্পকর্ম তেরি করি তখন বহু মানুষ আমাদের চারপাশে জড়ো হয়ে যায়। এই কাজ আনন্দ বয়ে আনে। শিশু-বৃদ্ধ সবার চোখেমুখেই আমরা আনন্দ দেখতে পাই।

যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, বিস্ফোরণের শব্দের বদলে আমাদের তৈরি করা শিল্পকর্মগুলো মানুষকে মুহূর্তের জন্য এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।”

আরেক শিল্পী মাজদ আয়াদা সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি ও অন্যান্যরা প্রতিদিনই সৈকতে গিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেন। যদিও সন্ধ্যার জোয়ারে বালুতে তৈরি তাদের শিল্পকর্ম ধুয়েমুছে যায় তবুও পরদিন তারা আবার নবদ্যোমে কাজ করেন।

মাজদ বলেন, “শিল্পকর্ম তৈরি করা আমাদের প্রতিভা। আমরা ভাস্কর্য তৈরি করা বিশেষ করে গাজার মাটিতে তা তৈরি করতে ভালবাসি। দুই বছরের যুদ্ধের পরও আমরা কখনও হাল ছাড়িনি।”

গাজার সমুদ্র সৈকতের কাছেই প্লাস্টিকের তাঁবুতে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবার।

ফাতহি আবু মাউদ নামের বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি জনক জানান, তরুণ বয়সীদেরকে গাজার প্রতিচ্ছবি আঁকতে দেখে তার পরিবার খুশি হয়। এই শিল্পকর্ম গাজার সঙ্গে তাদের একাত্মতা আরও দৃঢ় করে।

তার কথায়, “আমরা এখানে জন্মেছি, আমাদের সন্তানরা এখানে জন্মেছে... এটি আমাদের বাড়ি। গাজায় আমাদের শেকড় জড়িয়ে আছে।”