Published : 26 Jun 2026, 02:38 PM
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে চাপ বেড়ে গেলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতাকে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল বিচারপতিদের সমর্থনে আদালত ৬-৩ ভোটের এক রায়ে নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সরকারের ওই নীতি ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে।
সরকার জানিয়েছে, ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি জো বাইডেনের বাতিল করা ‘মিটারিং’ নামের ওই নীতি তারা আবার চালু করার চেষ্টা করতে পারে।
‘মিটারিং’ নীতির আওতায় মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আটকে রাখতে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করতে পারেন।
গত বছর ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করার যে ব্যাপক নীতি ঘোষণা করেছিলেন, এটি তার থেকে আলাদা।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছালে’ তিনি আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন এবং ফেডারেল কর্মকর্তার মাধ্যমে তা যাচাই করা বাধ্যতামূলক।
এই মামলার মূল আইনি বিষয় ছিল, মেক্সিকো সীমান্তে আটকে থাকা আশ্রয়প্রার্থীরা আসলেই যুক্তরাষ্ট্রে ‘পৌঁছেছেন’ কি না।
আদালতের পক্ষে রায় দেওয়া রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো তার মন্তব্যে বলেন, এর উত্তর হল ‘না।’
তিনি যুক্তি দেন, সাধারণ ভাষায় কেউ কোনো স্থানে প্রবেশ করার আগে সেখানে ‘পৌঁছেছেন’ বলা যায় না।
আদালতে এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে ভিন্নমত প্রকাশ করেন উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়োর। তার সঙ্গে যোগ দেন বিচারপতি এলিনা কাগান এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন।
সোতোমেয়োর তার লিখিত বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের মার্কিন মাটিতে পা রাখতে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার অনুমোদন পেয়ে গেলেন।
তিনি বলেন, “আজকের এই সিদ্ধান্তের পরিণতি খুবই স্পষ্ট। এর ফলে আরও মানুষের মৃত্যু হবে। আরও বেশি মানুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করবে। মানুষ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মেক্সিকো সীমান্তে হাঁটতে বাধ্য হবে এবং অনেকে জাতি, ধর্ম বা জাতীয়তার কারণে সহিংসতার শিকার হয়ে ফিরে যাবে।”
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আরেকটি বড় রায় দিয়েছে। এর মাধ্যমে হাইতি ও সিরিয়ার কয়েক লাখ অভিবাসীকে সুরক্ষা দেওয়া ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) বা সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা প্রত্যাহার করার পথ পরিষ্কার হল।
এই রায়ের কারণে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬,১০০ সিরিয়ান অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়লেন।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কোনো বিদেশি নাগরিক বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলা যাবে না, এই নীতি সুপ্রিম কোর্টে আবারও প্রমাণিত হল।”
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী মেলিসা ক্রো এই রায়কে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য একটি ‘বিপদসংকেত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০১৬ সালে বারাক ওবামার আমলে প্রথম এই মিটারিং নীতি আংশিক শুরু হয়েছিল, যা ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
২০২১ সালে জো বাইডেন এটি বাতিল করেন। গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে আদালত ট্রাম্পের পক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার কয়েক লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা বাতিল এবং অভিবাসীদের নিজ দেশ ছাড়া অন্য দেশে ফেরত পাঠানোর অনুমতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চলতি জুনের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়েও সুপ্রিম কোর্টের আরেকটি বড় রায় আসার কথা রয়েছে।