Published : 23 Jul 2026, 08:45 PM
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে শান্তির আহ্বান রেখেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক, সেটাই চাই।”
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া এবং মিয়ানমার-পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টেনে তা বাংলাদেশের জন্য শঙ্কার কিনা সেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল প্রতিমন্ত্রীর সামনে।
জবাবে তিনি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করব, ভারত বিশ্বের আরেকটি বৃহত্তম গণতন্ত্র, সেই গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তাদের জনগণের অবস্থান দেখবে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে দ্রুত এগোবে।”
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের জেরে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অভিজিৎ দীপ নামের এক সমাজকর্মীর নেতৃত্বে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।
আদালতের এক শুনানিতে দেশটির প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও সমাজকর্মীদের ‘তেলাপোকা’ বলে কটূক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেজন্যই সংগঠনটির এমন নাম। সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির নামের ‘জনতা’ নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সিজেপি আরো সাংগঠনিক রূপ পায়। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি করে। ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশ বল প্রয়োগ করলে আন্দোলন আরো তীব্র হয়।
ওই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আমরণ অনশনে বসেছেন ৫৯ বছর বয়সি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অসুস্থ হয়ে পড়ায় শনিবার একপ্রকার জোর করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সিজেপির এই আন্দোলন এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতাসহ বিভিন্ন রাজ্যের বড় শহরগুলোয় ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস তাদের সমর্থন দিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলীয় নেতারা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ করায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দেশটির অনেক সমাজকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীরাও সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।