Published : 23 Jul 2026, 09:12 PM
বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সই করা ঐতিহাসিক চুক্তিটি অনুমোদন পাওয়ার আগেই নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, এই চুক্তি নির্ভর করছে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর। তাছাড়া, চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি (যেখানে কোনও সমৃদ্ধকরণ থাকবে না, কেবল বেসামরিক কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার হবে) অনুমোদন করা হবে। তবে এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে (ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি) যোগ দেওয়ার ওপর।”
“যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনা ও কর্মসূচির বিরোধী নয়”, বলেন ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি সই করে।
চুক্তির বিস্তারিত খুঁটিনাটি প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা এবং ভবিষ্যতে নিজেদের মাটিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে।
ট্রাম্প এই চুক্তিটি সইয়ের ঘোষণা দেওয়ার সময় কোনও শর্তের উল্লেখ করেননি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটি অস্থিতিশীল পশ্চিম এশিয়ায় ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সমালোচনা করার পর তিনি সৌদি আরবকে নতুন ওই শর্ত দিলেন।
তবে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না পাওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত হয় আব্রাহাম অ্যাকর্ডস। এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল। পরে সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তানও একই পথে হাঁটে।
ট্রাম্পের শর্তের বিষয়ে সৌদি আরব এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ওদিকে, চুক্তির বিস্তারিতও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বুধবার ঘোষিত চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে বলা ট্রাম্পের শর্তটি চুক্তির মধ্যেই রাখা হয়েছে কিনা বা সৌদি আরব এই শর্ত মেনেছিল কিনা সেটি স্পষ্ট নয়। তবে ইসরায়েল এরই মধ্যে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে।