Published : 26 Jun 2026, 12:30 PM
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারের নিরাপত্তা (এসকর্ট) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)।
বৃহস্পতিবার এই প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এই হামলার ফলে ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তিটি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নৌসংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের কাছাকাছি এলাকায় একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু ছোড়া হয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে তাদের অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য রুটে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
রয়টার্সকে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুরোধ দেখভালের জন্য তেহরানের গঠিত ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ বলেছে, তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “অননুমোদিত রুটের বাইরে যাতায়াতের ফলে যে কোনো পরিস্থিতির দায়ভার জাহাজের মালিক, অপারেটর এবং কমান্ডারের ওপর বর্তাবে।”
চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, আক্রান্ত জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’। একটি নিরাপত্তা সূত্র বলছে, জাহাজটিতে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ অবসান এবং প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চুক্তি মেনে না চলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেশটিতে বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মাসের পর মাস ধরে শত শত জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। আইএমও ওই বিপন্ন জাহাজ ও নাবিকদের সেখান থেকে নিরাপদে বের করে আনার কাজ করছিল।
আইএমও-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের উদ্ধার তালিকায় থাকা জাহাজ এবং এই অঞ্চলের সবার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্যারান্টি এখনো বহাল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, হামলার শিকার জাহাজটি তাদের উদ্ধার কর্মসূচির অংশ ছিল না।
তেলের বাজারে প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপ
হরমুজ প্রণালিতে ফের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে এবং পারস্য উপসাগরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি হয়েছে।
যদিও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হওয়ায় পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরছিল।
এর মধ্যেই ইরান তাদের নির্ধারিত রুট না মানলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে দুটি জাহাজের গতিপথ বদলে দেয়। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দেন।
এদিকে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ও খসড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনা বাড়ছে।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের ব্যয়কে যৌক্তিক মনে করেন।