Published : 24 Jul 2026, 12:52 PM
জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা।
তবে দেশব্যাপী চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একজন মুখপাত্র।
রয়টার্স লিখেছে, সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিন পর অনশন ভাঙায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। তাদের পুরোভাগে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজিপি, প্রধান বিচারপতির এক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে যে সংগঠনের জন্ম হয়েছিল।
দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, শুক্রবার ‘একটি নিরপেক্ষ স্থানে’ সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে।
“আমরা আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনায় আসবে এবং রাজপথে থাকা দেশের মানুষের কথা শুনবে। আমরা আমাদের দাবিগুলো তাদের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব। আমরা আশা করি সরকার আমাদের কথা শুনবে।”
তবে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পিছিয়ে আসছি না। কারণ, প্রকৃত জাগরণ শুরু হয় একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে, আর সেটা আমাদের সত্যিই প্রয়োজন।”
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আন্দোলনকে তার সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় যুব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রধান বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাতে চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মাধ্যমে শুরুতে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন তরুণকে নিয়ে এই প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ তরুণের সমর্থনে এটি দ্রুত বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যা মোদী সরকারকে কার্যত অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
এ আন্দোলনের হাজার হাজার সমর্থক সোমবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এরপর বুধবার রাতে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী সমবেত হলে ফের সংঘর্ষ হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে এই বিপুল জনসমর্থনের কারণ কেবল ঘন ঘন প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং কর্মসংস্থানের অভাবের মত বিষয়গুলো নিয়ে তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভেরই প্রতিফলন। তারা সরকারকে কার্যকরভাবে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিক্ষোভ দমাতে বৃহস্পতিবার মধ্য দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত করা হয়, যা হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে।
এরপর শুক্রবার সকাল থেকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন।
চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত রাজধানী শহরের অন্যতম প্রধান এই গণপরিবহন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্তব্ধ রাখা হল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি খসড়া বিল তোলা হবে এবং দ্রুততম সময়ে এটি সংসদে পাস করানো হবে।
তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কেবল আইন সংশোধন যথেষ্ট নয়, বরং প্রশ্নপত্র ফাঁস স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে শুরুতেই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।
এদিকে সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙার সময় সেখানে উপস্থিত দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, শুক্রবার ভিডিও বার্তায় তিনি তা বিস্তারিত জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।