Published : 01 Feb 2025, 10:32 PM
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার রাফা সীমান্ত দীর্ঘ নয় মাস পর খুলে দেওয়া হয়েছে। আহত ও গুরুতর অসুস্থ ফিলিস্তিনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী মিশরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে সীমান্তটি খুলে দেওয়া হয়।
শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি রোগীদের ৫০ জনের একটি দল ও তাদের দেখভালকারী আরও ৬১ জন রাফা সীমান্ত পার হয়ে মিশরে গিয়েছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এসব রোগীর অনেকেই ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন। ১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে তারা চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না।
মিশরীয় টেলিভিশন দেখিয়েছে, ফিলিস্তিনি রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্সগুলো রাফা ক্রসিংয়ের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর সেগুলো থেকে বেশ কয়েকজন শিশুকে বের করে এনে মিশরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
গত ১৯ জানুয়ারি হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মোট ৪০০ ফিলিস্তিনিকে গাজা ত্যাগের অনুমতি দেয়া হবে।
রাফা ক্রসিং ফের খুলে দেওয়া একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, এতে চুক্তিটি আরও জোরদার হয়েছে বলে মন্তব্য আল জাজিরার। হামাস গাজায় বন্দি থাকা শেষ নারী জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর ইসরায়েল এই ক্রসিংটি খুলে দিতে সম্মত হয়।
শনিবার হামাস গাজায় তাদের হাতে বন্দি আরও তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি। এই দিনটিতেই গাজার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংটি খুলে দেওয়া হলো।
মে, ২০২৪ এ ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দক্ষিণ সীমান্তের ক্রসিংটি দখল করে নেওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদে মিশরও ক্রসিংয়ের তাদের পাশের অংশটি বন্ধ করে দেয়।
গাজার ফিলিস্তিনিরা এই ক্রসিংটির ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতো। কিন্তু গাজা যুদ্ধের আগেও ছিটমহলটিতে নেই কেমোথেরাপির মতো এমন প্রাণরক্ষাকারী চিকিৎসা নিতে গাজাবাসীদের ভূখণ্ডটির বাইরে যেতে অনুমতির জন্য নিয়মিত আবেদন করতে হতো।
ক্রসিংটি খুললেও এর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা রয়ে গেছে। ইসরায়েল অনেকদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, মিশরের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগে নিয়ে হামাস চোরাপথে অস্ত্র নিয়ে আসছে। তবে এ দাবি মিশর অস্বীকার করে এসেছে।
এখন ইসরায়েলি বাহিনী ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও (পিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি। তাদের বদলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এর আগে দায়িত্বপালন করা গাজার ফিলিস্তিনিদের ক্রসিংটির কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে তাদের পিএ-র পরিচিয় চিহ্নবাহী ব্যাজ পরার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক কূটনীতিক।
২০০৭ সালের আগের মতো ইইউয়ের পর্যবেক্ষকরাও ক্রসিংটিতে উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাসপাতাল বিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ জাকৌত জানান, ছয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি রোগীকে চিকিৎসা জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ১২ হাজারেরও বেশি রোগীর জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ১৫ মাসের অবিরাম বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ হাসপাতালেরই চিকিৎসা দেওয়ার মতও পরিস্থিতি নেই।
ফলে, আহত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যথাযথ চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।