Published : 11 Jun 2026, 12:08 AM
অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদেশের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দিতে বলা হয়েছে।
তাকে আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছে আদালত।
আবুল বারকাতের মেয়ে অরনি বারকাতের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাত গত মঙ্গলবার এই রিট দায়ের করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, আবুল বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং সৈয়দ মামুন মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী প্রান্ত বড়ুয়া।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।
আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, রিটের শুনানি শেষে আদালত রুলসহ তাৎক্ষণিক মুক্তির এ আদেশ দিয়েছে।
রিটে বিবাদী স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মামুন মাহবুব বলেন, অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কেন আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে না যাতে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারে যে তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি- রুলে সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে হাই কোর্টের আদেশ ও রুলের কপি প্রতিপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আদেশও দেওয়া হয়েছে বলে মামুন মাহবুব জানিয়েছেন।
গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। সেদিনই ঢাকার নিউ মার্কেট থানার একটি বিস্ফোরক আইনের পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে তার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব তথ্য দেন।
আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময় এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। ওই বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।