Published : 27 Jul 2026, 07:04 PM
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ‘সঠিক ইতিহাসের’ সুরক্ষা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ডেটাবেইজ তৈরিতে পাব্লিক ডিপ্লোমেসি টিমের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের অগাস্টের অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের কল্যাণ এবং আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
এ সময় মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সচিব আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ এবং যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) জেহাদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাকালে মুক্তিযুদ্ধে ‘প্রকৃত শহীদ’ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক এবং নির্ভুল তালিকা তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির অভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ডেটাবেইজ তৈরি জটিল ছিল। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর তত্ত্বাবধানে তথ্য প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্রোফাইলিং প্রসেস ব্যবহার করে সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী কার্যক্রম, বিশেষ করে আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নির্ভুল করার প্রয়াস এবং জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা (যেমন- ন্যাশনাল আর্কাইভস, স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট) বর্ণনা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, “ইতিহাস সংরক্ষণ একটি সতত চলমান প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সঠিক ইতিহাস সুরক্ষায় এবং ডেটাবেইজ তৈরিতে মার্কিন পাব্লিক ডিপ্লোমেসি টিমের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহী।”
বৈঠকে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষায়িত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর আওতায় ৮৪৩ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৩০ জন আহতের বিস্তারিত ডেটাবেইজ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়।