খান ইউনিসে আরও এগিয়েছে ইসরায়েল, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ

গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মিশর সীমান্তের কাছে এবং ভূখণ্ডটির একটি জনশূন্য সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।  

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2023, 06:12 AM
Updated : 7 Dec 2023, 06:12 AM

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার দক্ষিণাংশের বৃহত্তম শহর খান ইউনিসের কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, শহরটিতে তারা হামাস যোদ্ধাদের নেতার বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে।

এই পরিস্থিতিতে গাজার হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মিশরের সীমান্তের কাছে এবং ভূখণ্ডটির একটি জনশূন্য সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে।   

এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী লিফলেট ছেড়ে ও মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে গাজাবাসী ফিলিস্তিনিদের খান ইউনিস ছেড়ে রাফায় চলে যেতে বলে আর সেখানে তারা নিরাপদ থাকবে বলে আশ্বাস দেয়।

তাড়া খাওয়া ফিলিস্তিনিরা মিশরের সীমান্তবর্তী রাফা শহরে গিয়ে জড়ো হয়। কিন্তু বুধবার শহরটির এক বাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার পর তারা আতঙ্কিত হয়ে আছে বলে রাফার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথমবারের মতো দক্ষিণ গাজার বৃহত্তম শহর খান ইউনিসের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড জানিয়েছে, সেখানে তীব্র লড়াই হচ্ছে।

শহরটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বোমা হামলা আরও বাড়তে থাকায় বহু বেসামরিক হতাহত হচ্ছে। ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো খান ইউনিসের উত্তরে ও পূর্বে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনারা খান ইউনিসের কেন্দ্রস্থলে ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অভিযান’ চালাচ্ছে আর ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল, সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো ধ্বংস ও অস্ত্র উদ্ধার’ করছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসে হামাস নেতা ইয়াহিয়া আল-সিনওয়ারের বাড়ি ঘেরাও করে ফেলেছে।   

এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, “তার বাড়ি তার দুর্গ নাও হতে পারে আর তিনি পালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তাকে ধরতে আর বেশি সময় লাগবে না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ট্যাংকগুলো সিনওয়ারের বাড়ির কাছে চলে এসেছে কিন্তু তিনি সেখানে আছেন কিনা তা জানা যায়নি। ইসরায়েল বলছে, তাদের বিশ্বাস হামাসের বহু নেতা ও যোদ্ধা ভূগর্ভস্থ টানেলগুলোতে আত্মগোপন করে আছে।

৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তাদের মধ্যে শুরু হওয়ার যুদ্ধের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এখন যুদ্ধ এর তীব্রতম একটি পর্বে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ঘনবসতিপূর্ণ গাজার বিভিন্ন লক্ষ্যে অনবরত বোমা হামলা চালাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএফএ জানিয়েছে, বুধবার রাতে গাজার মধ্যাঞ্চলীয় মাগাজির একটি বাড়িতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার উত্তরাংশে জাবালিয়া শিবিরে ইসরায়েলের বোমা হামলায় তাদের গাজা সংবাদাতা মোয়ামেন আল-শরাফির ২২ জন আত্মীয় নিহত হয়েছে। আল জাজিরা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।   

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার উত্তরাংশের লাখ লাখ বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েল গাজার দক্ষিণাংশকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করে তাদের সেখানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা গাজার ভূখণ্ডের দক্ষিণাংশে সরে যাওয়ার পর এখন সেখানেও ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

জাতিসংঘের মানবিক দপ্তর বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খান ইউনিস থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে রাফায় অধিকাংশ গৃহহীন মানুষ তাঁবুর অভাবে খোলা জায়গায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে। ১ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে রাফা ক্রসিং দিয়ে অল্প কিছু ত্রাণ প্রবেশ করতে পারলেও তীব্র যুদ্ধের কারণে সেগুলো বিতরণ করা যাচ্ছে না।

বহু বাস্তুচ্যুত বেসামরিক ফিলিস্তিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল আল মুসিতে গিয়ে হাজির হয়েছে। ইসরায়েল এই এলাকাকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে।

কিন্তু বেদুইনদের পরিত্যক্ত এই গ্রামটিতে পর্যাপ্ত আশ্রয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামোর কিছুই নেই বলে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:

Also Read: জাহাজে হুতি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান সৌদি আরবের

Also Read: গাজায় তীব্র স্থল অভিযানে মরিয়া অধিবাসীরা, খাবার জুটছে একবেলা

Also Read: পুতিনের মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু

Also Read: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের হামলাকারী ইসরায়েলিদের ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

Also Read: গাজায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনির যাওয়ার কোনো জায়গা নেই: জাতিসংঘ