ইসরায়েলের ভোটের দিনে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল
ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং যাতায়াতে কঠোর অবরোধের বিরুদ্ধে এই মিছিল করেছে ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ছুড়ে ইসরায়েলি সেনারা।
ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলার দিনে মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বাড়িঘর উচ্ছেদ এবং যাতায়াতে কঠোর অবরোধের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ মিছিল করেছে ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে ইসরায়েলি সেনারা।
গত সপ্তাহে হেবরনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান, বাড়িঘর ও স্থাপনা ভাঙচুর শুরু করে। ফলে ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়।
তাছাড়া, নির্বাচনের অজুহাতে পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ শহর, জনপদ ও তল্লাশি চৌকি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফলে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নেওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাস্তুচ্যুত নুরা প্রশ্ন তোলেন, ইসরায়েলে নির্বাচন চললেও ফিলিস্তিনিরা কি মানুষ নন? তাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।
আরেক বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা সানা সালমান বলেন, ইসরায়েলের এই নির্বাচন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতায় কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এই নির্বাচনে কে নিপীড়ক হবে আর কে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করবে, সেটিই কেবল নির্বাচিত হবে।”
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের নির্বাচনে কোনও ভোটাধিকার নেই। বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলে 'গণতন্ত্রের উৎসব' চললেও ফিলিস্তিনিদের মৌলিক মানবাধিকার টুকু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট উভয়েই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধী। নির্বাচনের দিন পশ্চিম তীর ও গাজায় কঠোর লকডাউন এবং সব স্থলপথ ও বসতিতে ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রেখেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের আমলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রপন্থী সহিংসতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কিছু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনের এই সময়ে পশ্চিম তীরে কঠোর দমনপীড়ন শুরু করেছেন, যাতে তিনি তার ডানপন্থি সমর্থকদের ভোট টানতে পারেন। অন্যদিকে, সরকারের দাবি, সেনাদের ওপর হামলার জবাব দিতেই পশ্চিম তীরে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের বিক্ষোভে নারী, পুরুষ ও শিশুরাও অংশ নিয়েছে। এক প্রবীণ বিক্ষোভকারীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “সম্মিলিত শাস্তি নয়, অবরোধ নয়, বাস্তুচ্যুতিও নয়।”
এর আগে সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, “সম্মিলিত শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। পুরো এলাকা জনশূন্য করে দেওয়ার হুমকিও জাতিগত নিধনের গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।”
নেতানিয়াহু সরকারের আমলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বললেও ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে আসছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বেড়েছে।
