দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের পর হেবরনে বড় ধরনের অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী
এর আগে ফিলিস্তিনিদের গুলিতে হেবরন শহরের একটি তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়।
ফিলিস্তিনের ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরন শহরে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার রাতে এ অভিযানের কথা ঘোষণা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), যাকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ বলছে তারা; খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
আইডিএফ বলেছে, “সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্রশস্ত্র খুঁজে রেব করে তা ধ্বংস করার লক্ষ্যে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
এই অভিযান আইডিএফ, শিন বেত, সীমান্ত পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
আইডিএফ আরও বলেছে, “অভিযানটি সুনির্দিষ্ট ও যেখান থেকে সন্ত্রাসীরা কার্যক্রম চালিয়েছে শুধু সেই এলাকাতেই সীমাবদ্ধ।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানটি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। এ সময় নিরাপত্তা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এই এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বের হওয়ার নির্দিষ্ট তিনটি পথ দিয়ে চলে যেতে পারবেন। তবে তল্লাশির সময় ‘যার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হবে’ নিরাপত্তা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে যাবে।
শুক্রবার এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হেবরন শহরে একটি তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী। এই বন্দুকধারীদের বাড়ি শনাক্ত করে ধ্বংস অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হেবরন শহর এবং এর কাছাকাছি ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলোতে ‘লকডাউন’ জারি করা হয়েছে।
বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের ঘটনার এলাকায় তারা এমন সব ‘অবৈধ কাঠামো’ ভেঙে ফেলেছে যেগুলো ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে’।
শুক্রবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “যেখানে ওই বন্দুকধারী বাস করত ইসরায়েলে ওই পুরো এলাকাটি ধ্বংস করে দেবে।
তিনি আরও জানান, তিনি পশ্চিম তীরজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের সময় সোম ও মঙ্গলবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে পশ্চিম তীরে আগে থেকেই লকডাউনের কথা রয়েছে।
