পশ্চিম তীরে বাসে ও গাড়িতে বন্দুক হামলায় ৩ ইসরায়েলি নিহত
ফিলিস্তিনি এক গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া মহাসড়কে ইসরায়েলিদের বহনকারী গাড়ি ও বাসে হামলা চালায় দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী।
ফিলিস্তিনের ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুইটি গাড়িতে ও একটি বাসে বন্দুক হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত ও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে পশ্চিম তীরের উত্তরাংশে কেদুমিম শহরের কাছে হামলার এ ঘটনা ঘটে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি গ্রাম আল-ফান্দুকের ভেতর দিয়ে যাওয়া একটি মহাসড়কে ইসরায়েলিদের বহনকারী দু’টি গাড়ি ও একটি বাসে হামলা চালায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী। প্রতিদিন হাজার হাজার ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি চালক এই মহাসড়কটি ব্যবহার করে।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা মেগান ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, একটি গাড়িতে থাকা ষাটোর্ধ্ব দুই নারীকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রায় দেড়শ মিটার দূরে আরেকটি গাড়িতে থাকা চল্লিশোর্ধ এক ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।
বাসটির অন্তত আট আরোহী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন যাত্রী ও অপরজন বাসটির চালক। ৬৩ বছর বয়সী এই চালককে সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সাত যাত্রীর মধ্যে দুই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের আঘাত তেমন গুরুতর নয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বন্দুকধারীদের খুঁজে বের করতে তারা বিপুল সংখ্যক সেনাকে মাঠে নামিয়েছে, তাদের তল্লাশিতে সাহায্য করতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে সামরিক বাহিনী ওই এলাকার সবগুলো গ্রাম ঘিরে বেষ্টনী বসিয়েছে, বন্দুকধারীরা নিকটবর্তী একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে পালিয়ে আছেন বলে ধারণা তাদের।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস দ্রুততার সঙ্গে এর প্রশংসা করলেও দায় স্বীকার করেনি। তারা বলেছে, “গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে অপরাধ করছে এ হামলা তার বীরোচিত প্রতিক্রিয়া।”
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যেককে ধরে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ হামলার বিষয়ে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
