Published : 18 Sep 2025, 10:14 AM
ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূখণ্ডটিতে দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
গাজার উদ্ধারকর্মীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে, কারণ ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষের দেহাবশেষ আটকা পড়ে আছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার গাজা ভূখণ্ডজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের অধিকাংশই নিহত হয়েছেন গাজা সিটিতে।
তারা জানিয়েছে, সর্বশেষ এই নিহতের সংখ্যা যোগ হওয়ার মধ্য দিয়েই দুই বছরের যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৫ হাজার পেরিয়ে গেছে।
ইসরায়েল মঙ্গলবার গাজা সিটিতে স্থল আক্রমণের মূল পর্যায় শুরু করার পর বুধবার হামলা আরও জোরদার করেছে। ব্যাপক আক্রমণের মধ্য দিয়ে বেসামরিক বাসিন্দাদের শহর ছাড়া করে হামাস যোদ্ধাদের মুখোমুখি হতে চায় তারা, লিখেছে রয়টার্স।

এ দিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, শহর ছাড়তে থাকা গাজা সিটির ফিলিস্তিনিদের ব্যবহার করার জন্য তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য আরেকটি রুট খুলেছে।
ইসরায়েল গাজা সিটির বাসিন্দাদের শহটির ছেড়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ মেনে গাজা সিটি ছেড়ে যাওয়ার সময় বুধবার ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে গাজার চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিক মোহাম্মদ আলা আল-সাওয়ালহিও রয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার একটি ত্রাণকেন্দ্রের কাছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনারা একটি ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ সরাতে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছিল।
গাজা সিটিতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের অনেকেই শহর ছেড়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে চলে যাওয়ার জন্য দেওয়া ইসরায়েলের নির্দেশ মানতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অনেকেই বলছেন, যেহেতু কোথাও তারা নিরাপদ না তাই শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।

আহমেদ নামের এক স্কুল শিক্ষক ফোনে রয়টার্সকে বলেন, “যদি আমরা গাজা সিটি ছেড়েও যাই, ফিরে যে আসতে পারবো তার কোনো গ্যারান্টি আছে? যুদ্ধ কি কখনো শেষ হবে? এ জন্যই আমি এখানে এই সাবরায় মারা যেতে পছন্দ করবো, আমার এলাকায়।”
ইসরায়েলের হিসাবে, তারা ১০ অগাস্ট যখন গাজা সিটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিল তখন নগরীটিতে যতোজন বাসিন্দা ছিল তার ৪০ শতাংশ বা প্রায় চার লাখ ইতোমধ্যে পালিয়ে গেছে।
গাজার গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে এক লাখ ৯০ হাজার দক্ষিণ দিকে গেছে আর তিন লাখ ৫০ হাজার নগরীটির কেন্দ্রস্থল ও পশ্চিম দিকের এলাকাগুলোতে সরে গেছে।