Published : 19 Mar 2026, 12:20 AM
গাজা ভূখণ্ডে হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় গত কয়েকদিনে এক ডজনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহতও হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামাসের প্রায় ১০ হাজার সদস্যের এই পুলিশ বাহিনী বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হামাস চায় নতুন প্রস্তাবিত পুলিশ বাহিনীতে তাদের বর্তমান কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে, ইসরায়েল যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের একটি কমিটির হাতে তুলে দিতে হবে। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর এই কমিটিই গাজার পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করবে। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের এই আলোচনা বর্তমানে ঝুলে আছে।
পুলিশ রক্ষায় সতর্ক হামাস
গাজার রাজপথে গাঢ় নীল উর্দি পরা প্রায় নিরস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তাদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ও উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে টহল দিতে দেখা গেছে। গত অক্টোবরে দুই বছরের যুদ্ধের পর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় যেসব এলাকা হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে এখন প্রায়ই এই দৃশ্য চোখে পড়ে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যমের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৮০০-রও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ডজনখানেক কর্মকর্তা, যার মধ্যে অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর।
থাওয়াবতা আরও জানান, প্রাণহানি এড়াতে পুলিশ সদস্যদের গতিবিধি ও মোতায়েন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসসহ বিশেষ ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
ইসরায়েলের দাবি, গাজায় তাদের সেনাদের ওপর হামাসের হুমকি নির্মূল করতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত রোববার মধ্য গাজার জাওয়াইদায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নয়জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে গাজার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা একটি সশস্ত্র হামাস সেল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যারা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল; এতে ছয়জন নিহত হয়েছে।
‘হামাসের নিরাপত্তা প্রচেষ্টা ব্যাহত করাই লক্ষ্য’
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেহাম ওদা রয়টার্সকে বলেন, গাজার যেসব এলাকায় হামাস তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করছে, তা নিয়ে ইসরায়েল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
“এসব হামলার মূল লক্ষ্য হল গাজায় হামাসের নিরাপত্তা কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং একটি পরিষ্কার বার্তা দেওয়া—গাজায় হামাসের বর্ধিত নিরাপত্তা ভূমিকা ইসরায়েল মেনে নেবে না।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ভূখণ্ডটিতে অন্তত ৬৭০ জন নিহত হয়েছে।
আর ইসরায়েল বলছে, একই সময়ে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় তাদের চারজন সেনার প্রাণ গেছে।
বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় স্থানীয় হামাস কমান্ডার মোহাম্মদ আবু শাহলা নিহত হন।
এছাড়া গাজা সিটিতে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির গুলিতে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাকে ‘ইসরায়েলি চরদের’ কাজ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
গাজা সিটির একটি উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করা আব্দুল্লাহ আল-আরাইশা বলেন, বাস্তুচ্যুত ২০ লাখের বেশি মানুষের এই শহরে অপরাধ দমন ও জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
“পুলিশ না থাকলে আমাদের ধ্বংস হয়ে যেতে হতো,” বলেছেন তিনি।