Published : 01 Aug 2025, 11:19 PM
ভারতের রাশিয়া ঘেঁষা অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে বিরক্তিকর বিষয় বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া বৃহস্পতিবারের এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “ভারত আমাদের মিত্র এবং কৌশলগত অংশীদার হলেও রাশিয়া থেকে তাদের তেল আমদানি করাটা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অস্বস্তির বিষয় হয়ে আছে।”
এই মন্তব্য এল একদিন পর, যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার কারণে সঙ্গে থাকবে ‘অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও’।
ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেলের দাম কমায় ভারত রুশ তেল কেনা বাড়িয়ে দেয়। এই প্রসঙ্গে রুবিও নিজেও স্বীকার করেন, “ভারতের বিশাল জ্বালানির চাহিদা আছে এবং তারা রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনছে, এটা বাস্তবতা।”
তবে তিনি এও বলেন যে, “এই তেল কেনা সরাসরি ইউক্রেইনে রাশিয়ার যুদ্ধাভিযানের পালে হাওয়া দিচ্ছে। সুতরাং, বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে একটা অস্বস্তির জায়গা।”
২০২৪ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে; যা ২০২১ সালে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। রুশ তেল কেনা বাড়ায় ভারতের অনেক সাশ্রয় হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব এই পদক্ষেপকে ভাল চোখে দেখেনি।
ভারত এখনও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর মন্তব্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ভারতের অবস্থান বরাবরই ছিল, “একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারতের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের স্বার্থে সাশ্রয়ী তেলের উৎস নিশ্চিত করা।”
রুবিও বলেন, “আমি মনে করি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট স্পষ্টতই হতাশা প্রকাশ করছেন। অন্য আরও অনেক তেল বিক্রেতা বাজারে থাকতেও ভারত কেন রাশিয়াকেই বেছে নিচ্ছে, সেটা হতাশার।”
যদিও রুবিও একথাও বলেছেন যে, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনাই এই হতাশার একমাত্র কারণ নয়। তবে রাশিয়ার তেল কেনা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন সেকথাও উল্লেখ করেছেন রুবিও।
ওদিকে ট্রাম্প ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বুধবার ট্রুথ স্যোশালে যে মন্তব্য করেছিলেন তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো। ট্রাম্প লিখেছিলেন, “তারা চাইলে নিজেদের মৃত অর্থনীতি একসঙ্গে ডুবাক, আমার কিছু যায় আসে না।”
এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, “তিনি যেন জম্বি টিভি ড্রামা ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ সিরিজের কথা মনে করেন এবং সোভিয়েত যুগের ‘ডেড হ্যান্ড’ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা ভয়ানক হতে পারে তা যেন ভুলে না যান।”
‘ডেড হ্যান্ড’ ছিল সোভিয়েত আমলে গড়ে তোলা একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা আক্রমণের সংকেত পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাল্টা আক্রমণ চালাতে সক্ষম ছিল বলে দাবি করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো—এইচপিসিএল, বিপিসিএল, এমআরপিএল ও আইওসিএল—গত সপ্তাহে রুশ তেল আমদানি বন্ধ করেছে। তাদের ভাষ্য, রুশ তেলে ডিসকাউন্ট কমাতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
তবে ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোকে রুশ তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এইচএসবিসি গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চ বলছে, জুলাই থেকেই ভারতে রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।