২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের চীন সফরে মাস্ক, কুকসহ যে সিইওরা সঙ্গী হতে পারেন

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈরিতার মধ্যে এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের চীন সফরে মাস্ক, কুকসহ যে সিইওরা সঙ্গী হতে পারেন
ইলন মাস্ক ও টিম কুক

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 May 2026, 10:33 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে তার চীন সফরে শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসি লিখেছে, বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এ সরকারি সফরে যারা যোগ দিতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরক-এর ল্যারি ফিঙ্ক এবং মেটা, ভিসা, জেপি মরগান, বোয়িং, কার্গিলসহ আরও বেশ কিছু কোম্পানি শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এই সফরে মোট ১৭ জন মার্কিন নির্বাহী যোগ দেবেন।

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈরিতার মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাস্ক, কুক, ফিঙ্ক ছাড়াও আরও যেসব নির্বাহী মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন, তারা হলেন-

•    ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক: প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান, মেটা

•    কেলি ওর্টবার্গ: প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী, বোয়িং

•    রায়ান ম্যাকলনার্নি: প্রধান নির্বাহী, ভিসা

•    স্টিফেন শোয়ার্জম্যান: প্রধান নির্বাহী, ব্ল্যাকস্টোন

•    ব্রায়ান সাইকস: প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান, কার্গিল

•    জেন ফ্রেজার: প্রধান নির্বাহী, সিটি

•    জিম অ্যান্ডারসন: প্রধান নির্বাহী, কোহারেন্ট

•    হেনরি লরেন্স কাল্প: প্রধান নির্বাহী, জিই অ্যারোস্পেস

•    ডেভিড সলোমন: প্রধান নির্বাহী, গোল্ডম্যান স্যাকস

•    জ্যাকব থায়সেন: প্রধান নির্বাহী, ইলুমিনা

•    মাইকেল মাইব্যাখ: প্রেসিডেন্ট, মাস্টারকার্ড

বিবিসি লিখেছে, এই তালিকায় এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তার কোম্পানি কম্পিউটার চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে।

এ বিষয়ে এনভিডিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিবিসি।

গত সপ্তাহে হুয়াং সিএনবিসিকে বলেছিলেন, যদি তাকে এই সফরে আমন্ত্রণ জানানো হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে চীনে যাওয়াটা তার জন্য একটা ‘সম্মানের বিষয়’ হতো।

সিসকো’র প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান চাক রবিন্সকে এই সফরে যেতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আয় সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের কারণে তিনি যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন কোম্পানির মুখপাত্র।

বিবিসি লিখেছে, প্রতিনিধি দলের এ নির্বাহীরা সোশাল মিডিয়া, কনজিউমার হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে কম্পিউটার চিপ এবং ফিনটেকের মত মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইলুমিনার একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান নির্বাহী জ্যাকব থায়সেন “প্রতিনিধি দলের অংশ হতে পেরে সম্মানিতবোধ করছেন”। কোম্পানি আশা করে, এই সফর “সম্পর্ক জোরদার করার এবং প্রিসিশন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি সুযোগ হবে।”

অন্যান্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের চীন সফরকে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছিল, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল।

২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের শেষ বৈঠকের পর ওই শুল্ক স্থগিত করা হয়েছিল।

এবারের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বড় প্রভাব ফেলছে, যে কারণে ইতোমধ্যে ট্রাম্প ও শির বৈঠক বিলম্বিত হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় বেইজিং সহায়তা করে। 

ইরান থেকে সস্তা দরে তেল কেনা চীনও সংঘাতের অবসান চায়। তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে যাওয়ায় চীনা পণ্য কিনে থাকে এমন বহু দেশের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে তেলের বিশাল মজুদ এবং বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকার কারণে চীন প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় এই যুদ্ধের প্রভাব এখন পর্যন্ত ভালোভাবে সামলে নিতে পেরেছে।