Published : 16 Mar 2026, 11:59 PM
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্ক দ্বীপ’ দখলে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
পারস্য উপসাগরে ইরানের অবরোধের কারণে তেলের ট্যাংকার চলাচল বন্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ।
যদি যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে, তবে ইরানের মাটিতে মার্কিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনের ওপর ইরানের বড় ধরনের পাল্টা হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে, যার বড় প্রভাব পড়তে পারে সৌদি আরবের ওপর।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েল এখনই ইরানের মাটিতে সেনা নামাতে ইচ্ছুক নাও হতে পারে।
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেম, কেউই ইরানে আগ্রাসন চালাতে ইচ্ছুক নয়।
তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভূখণ্ড দখলের বদলে জনগণের চাপের মাধ্যমে ইরানের ভেতর থেকে পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা।
কেন খার্ক দ্বীপ দখল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?
পারস্য উপসাগরের সরু প্রণালিতে ইরানের অবরোধের ফলে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আটকে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারকে চরম সংকটের মুখে ফেলেছে।
অ্যাক্সিওসকে এক সূত্র জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে এবং উপসাগরীয় তেলের সরবরাহ সীমিত থাকবে, ততক্ষণ ট্রাম্প চাইলেও এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন না।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, খার্ক দ্বীপ দখল করা হবে তেহরানের জন্য একটি ‘অর্থনৈতিক নকআউট’ বা মরণঘাতী ধাক্কা। এর ফলে দেশটির তহবিলের প্রধান জোগান কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এই ধারণাকে সমর্থন করে বলেছেন, যার হাতে খার্ক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎও সেই নিয়ন্ত্রণ করবে।
উল্লেখ্য, এই দ্বীপটি ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি।