Published : 18 Jan 2026, 02:41 PM
সিরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুর্দিদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর নিয়ন্ত্রণ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাবকাহ দখল করে নিয়েছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এখন দ্রুতগতিতে এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের প্রধান শহর রাক্কার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে রাক্কার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ও সরকারি বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে এসডিএফ। সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এসএএনএ জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী রাক্কা প্রদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মুখে এসডিএফ ইউফ্রেতিস নদীর দুটি সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। রাক্কায় প্রবেশ করতে সরকারি বাহিনীকে এই নদী পার হতে হবে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এসএএনএ একটি ছবি প্রকাশ করে সেটি ধসে যাওয়া একটি সেতুর বলে জানিয়েছে, যেটি কুর্দি নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ভেঙে দিয়েছে।
সিরিয়ার সেনাবাহিনী শনিবার দিনভর দেশটির কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও তারা অভিযান বন্ধ করেনি।

এসএনএনএ জানিয়েছে, এদিন সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় শহর তাবকাহ ও সংলগ্ন বাঁধের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর পাশাপাশি রাক্কার পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রিডম বাঁধেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আগে এই বাঁধটি ‘বাথ’ নামে পরিচিত ছিল।
সিরিয়ার সেনাবাহিনী এসডিএফকে হটিয়ে দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এসডিএফ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব এলাকার ওপর তাদের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছিল।
রাক্কার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর দিয়ের আজ জোরের বিভিন্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা উত্তরাঞ্চলের আরেক শহর দিয়ের হাফেরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং পূর্ব দিকের জাররাহ বিমান ঘাঁটি দখল করেছে। এসব এলাকায় তারা মাইন ও বিস্ফোরক অপসারণে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, দিয়ের আজ জোরের পূর্বদিকের গ্রামাঞ্চলের আল-ওমর ও আল-তানাক তেলক্ষেত্র থেকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর যোদ্ধারা সরে যাওয়ার পর সিরিয়ার সেনারা দেশটির বৃহত্তম তেলক্ষেত্র আল-ওমরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সরকারি বাহিনী একই এলাকার কোনোকো গ্যাসক্ষেত্রেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এর আগে শনিবার সিরিয়ার পেট্রলিয়াম কোম্পানি জানিয়েছিল, সিরিয়ার সেনারা দিয়ের হাফেরের নিকটবর্তী রাসাফা ও সুফিয়ান তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সিরিয়া প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এক ডিক্রি জারি করে কুর্দি ভাষাকে সিরিয়ার ‘অন্যতম জাতীয় ভাষা’ ঘোষণা করেন এবং সরকারিভাবে কুর্দিদের জাতিগত স্বীকৃতি দেন। এরপর থেকে শারার সরকার কুর্দি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে তাদের কর্তৃত্ব বিস্তৃত করা শুরু করেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুর্দি যোদ্ধাদের আক্রমণে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে তাদেরও কিছু সেনা নিহত হয়েছেন বলে এসডিএফ স্বীকার করেছে, তবে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
এক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, এসডিএফ যে সব অঞ্চল সরকারি বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সম্মত ছিল সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে তারা সরে গেছে আর কিছু এলাকা থেকে কৌশলগতভাবে পশ্চাৎপসরণ করেছে।
এসডিএফ গণতান্ত্রিক সিরিয়ার কুর্দি আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে আর এই কারণেই তারা কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই দুপক্ষের বিরোধের দ্রুত সমাধান চাইলেও তেমনটি ঘটার সম্ভাবনা কম, কারণ ওয়াশিংটন সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রেই বেশি মনোযোগী।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া দরকার।”