Published : 13 Jan 2026, 10:29 PM
ইরানে চলমান সরকার-বিরোধী আন্দোলনে জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাদেরকে রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাহায্য আসছে বলে তাদেরকে আশ্বস্তও করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নিপীড়কদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।”
“কাণ্ডজ্ঞানহীন এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সবরকম বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য পৌঁছানোর পথে রয়েছে।”
তবে এই ‘সহায়তা’ ঠিক কী ধরনের এবং কখন সেটি ইরানে যাবে সে বিষয়ে তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে ইরানের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
গত সপ্তাহ শেষে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান সংকট সমাধানে তিনি কূটনৈতিক পন্থা নিতে চাইতে পারেন। বিশেষ করে ইরান আলোচনায় বসতে চেয়েছে বলে তিনি ঘোষণা দেওয়ার পর এই ইঙ্গিত দেন।
তবে ট্রাম্প সদ্যই ট্রুথ স্যোশালে বলেছেন, ইরানে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছেন না। এতে মনে হচ্ছে, আপাতত কুটনৈতিক পন্থাকে দূরেই সরিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
তিনি এর আগে ইরানের শাসকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে।
ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা বিক্ষোভে এখন এরই মধ্যে নিহত সংখ্যা প্রায় ২ হাজার বলে স্বীকার করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর পর ট্রাম্পের তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য মনস্থির করে ফেলেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বরে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভ থেকেই ইরানে বিক্ষোভের শুরু। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে।
মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের দরপতন- সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামতে থাকে লাগাতার। গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।
ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ এর ছেলে রেজা পাহলভির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাকের পরই রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।