Published : 21 Jun 2026, 12:47 AM
১২৪ রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতেই ৪৯ রান তুলে ফেলার পর ম্যাচের কতটুকুই বা আর বাকি থাকে! সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের চিত্রও খুব আশাপ্রদ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু ব্যাটে-বলে বাজে শুরুর পরও ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ আখ্যান রচনা করল দল। স্বর্ণা আক্তারের দুর্দান্ত ক্যামিওর পর দুই বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা ও নাহিদা আক্তাদের দারুণ বোলিংয়ে ছোট পুঁজিতেই মনে রাখার মতো এক জয় পেল নিগার সুলতানার দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি হওয়ার পর থেকে এই ম্যাচকে ‘টার্গেট’ করেছিল নিশ্চয়ই দুই দলই। দুই দলের লক্ষ্য ছিল জয়। সেই লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ।
সাউথ্যাম্পটনের রোজ বোলে শনিবার ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৬। সাতে নেমে স্বর্ণা আক্তারের ২২ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ১২৩ রানের পুঁজি তুলতে পারে তারা।
রান তাড়ায় ভালো শুরুর পর বাংলাদেশের স্পিনারদের আক্রমণে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেলে তারা করতে পারে মোটে ১০০ রান।
তিনটি করে উইকেট নেন নাহিদা ও মেঘলা।
প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর এই জয়, দেশের মাঠে ২০১৪ আসরের পর প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক আসরে একাধিক জয় পেল বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ বিপদে পড়ে যায় দ্রুতই। আরও একবার ব্যর্থ দলের টপ অর্ডার। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে ফাতিমা সানা ফেরান দিলারা আক্তার ও অভিজ্ঞ শারমিন আক্তার করে। একটু পর তাসমিয়া রুবাবের শিকার হন জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস।
৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৬।
নিগার সুলতানা ও সোবহানা মুস্তারির ব্যাটে এরপর লড়াইয়ের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে তা সফল হয়নি। ১৯ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন সোবহানা।
পরের সময়টায় রানের গতি হয়ে পড়ে আরও মন্থর। লম্বা সময় ক্রিজে থেকেও নিগার পারেননি হাত খুলতে। রিতৃ মনি ৬ রান করতে বল খেলেন ১৬টি। নিগার অনেকটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে আউট হন ৩৬ বেল ৩৮ রান করে।

শেষ দিকে দারুণ কিছু শটে দলকে লড়ার মতো রান এনে দেন স্বর্ণা। শেষ ৫ ওভারে ৪৬ রান তোলে বাংলাদেশ, সেখানে স্বর্ণার রানই ৩৮!
রান তাড়ায় প্রথম ৭ ওভারে উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি দলকে নিয়ে যায় পঞ্চাশের কাছে। এই সময়েই দলকে ম্যাচে ফেরান নাহিদা।
এমনিতে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিক বোলার তিনি। কিন্তু সবশেষ তিন ম্যাচে খরুচে বোলিংয়ে উইকেট ছিল না এই বাঁহাতি স্পিনার। সেই ব্যর্থতার অধ্যায় পেছনে ফেলে এবার তিনি জ্বলে উঠলেন দারুণভাবে।
গুল ফিরোজাকে (১৯ বলে ২৩) ফিরিয়ে দলকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদা। জয়ের জন্য এরপরও বলের চেয়ে রান কম লাগত পাকিস্তানের। নাহিদা পরের ওভারে ফেরান আরেক ওপেনার মুনিবা আলিকেও (২৫)।
তবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে সত্যিকারের মড়ক লাগে দ্বাদশ ওভার থেকে। মেঘলার স্পিনে এক ওভারেই বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় আয়েশা জাফার ও আলিয়া রিয়াজের।
মেঘলা পরে আউট করেন সাইরা জাবিনকেও। পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে বোল্ড করে বাংলাদেশের শেষ বাধা দূর করেন সেই নাহিদা।
৩৩ বলের মধ্যে ১৪ রা ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্ততূপে পরিণত হয় পাকিস্তানের ব্যাটিং। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিতে যায় অনায়াসেই।
টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে দুই জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন চার। পরের ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রতিপক্ষ ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৩/৬ (জুয়ায়রিয়া ৭, দিলারা ৬, শারমিন ০, নিগার ৩৬, সোবহানা ২২, রিতু ৭, স্বর্ণা ৩৯*, রাবেয়া ৪*; সাদিয়া ৪-০-২১-১, ফাতিমা ৪-১-১৮-২, তাসমিয়া ৪-০-৪০-১, নাশরা ৪-০-১৪-১, তুবা ৪-০-৩০-১ )।
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১০০/৮ (মুনিবা ২৫, গুল ২৩, আয়েশা ১১, ইরাম ৯, আলিয়া ০, ফাতিমা ১০, সাইরা ০, তুবা ১, নাশরা ৯*, তাসমিয়া ৭* ; মারুফা ৪-১-১৮-০, মেঘলা ৪-০-২১-৩, রাবেয়া ৪-১-১৭-১, রিতু ৪-০-২৪-১, নাহিদা ৪-০-১৮-৩)।
ফল: বাংলাদেশ ২৩ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: স্বর্ণা আক্তার।