Published : 21 Jun 2026, 12:22 AM
এক ওভারে দুই উইকেটের পতনে ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই চার নম্বরে নামতে হলো জো রুটকে। একটু পরই তিনি পৌঁছে গেলেন কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে- টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৪ হাজার রান। দর্শক, ড্রেসিং রুমের সতীর্থ, সবাই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল তাকে। অসাধারণ এই অর্জনের দিনে রুট নিজে ও হ্যারি ব্রুক ছাড়া ইংল্যান্ডের আর কেউ ব্যাট হাতে মেলে ধরতে পারলেন না নিজেদের।
ওভাল টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের জয় ও সিরিজে সমতা ফেরানোর মাঝে একমাত্র বাধা বলা যায় এখন রুট। শেষ দিনে জয়ের জন্য নিউ জিল্যান্ডের চাই ৫ উইকেট, ইংল্যান্ডের ২৮১ রান। ১৩৭ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন রুট।
উইকেটে এখন দেখা যাচ্ছে অসম বাউন্স। ইংল্যান্ডের জন্য জয় কিংবা ম্যাচ বাঁচানো ভীষণ কঠিন। জিততে হলে টেস্ট ইতিহাসে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে তাদের। ৪৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তারা চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৫ উইকেটে ১৮২ রানে।
এ দিন ৭ উইকেট হারিয়ে আগের দিনের স্কোরের সঙ্গে কেবল ১১০ রান যোগ করতে পারে নিউ জিল্যান্ড। ১১৯ রানের সঙ্গে আর ২ রান যোগ করেই আউট হন হেনরি নিকোলস। ১০৮ বলে ৬৮ রান করেন ড্যারিল মিচেল। আট নম্বরে ন্যাথান স্মিথের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৩৮।
নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৬২ রানে। প্রথম ইনিংসে লিড ছিল ১০০ রানের। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় পাহাড়সম লক্ষ্য।
রান তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন কাইল জেমিসন। মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এমিলিও গে, ওভারের শেষ বলে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ হন জ্যাকব বেথেল। এরপরই উইকেটে যান রুট।
সপ্তম ওভারে ম্যাট হেনরির বল কাভারের দিকে ঠেলে এক রান নিয়ে ১৪ হাজার রান পূর্ণ করেন ইংল্যান্ডের সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যান। ১৫ হাজার ৯২১ রান নিয়ে চূড়ায় ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকার।
বেশিদূর যেতে পারেননি বেন ডাকেট। উইল ও’রোককে পুল শট খেলতে গিয়ে বল তার ব্যাটের সামনের অংশে লেগে শর্ট মিডউইকেটের দিকে ক্যাচ উঠে যায়।
তখন ৪০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে ইংল্যান্ড। ম্যাচ চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে এতে।
তবে চা বিরতির পর রুট ও ব্রুকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান ব্রুক। ১০ চার ও এক ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি কেবল ৩৩ বলে। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রুট পঞ্চাশে পা রাখেন ৮১ বলে।
ব্রুক আর বেশিদূর যেতে পারেননি। পানি পানের বিরতির পরই তাকে ফিরিয়ে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন হেনরি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যাওয়া বল কিপার টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে লেগে স্লিপে মিচেলের হাতে আশ্রয় নেয়।
৫৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন ব্রুক।
অভিষিক্ত জেমস রুর সঙ্গেও জমে উঠছিল রুটের জুটি। কিন্তু দিনের শেষ দিকে জেমিসনের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন রু (৩৯ বলে ১৫)। রিভিউ নিয়ে উইকেটটি পায় সফরকারীরা।
আরেক অভিষিক্ত জর্ডান কক্সের সঙ্গে দিনের বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দেন রুট। শেষ দিনে তাদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৯১
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯১
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৮৭.১ ওভারে ৩৬২ (আগের দিন ২৫২/৩) (নিকোলস ১২১, মিচেল ৬৮, ব্লান্ডেল ১৬, ফিলিপস ৩, স্মিথ ৩৮, জেমিসন ৬, হেনরি ১, ও’রোক ০*; আর্চার ১৬-০-৬২-৩, ফিশার ১৭-৪-৫৮-৩, টাং ১৯-৫-৬৪-২, বেকার ১৫.১-২-৬৭-০, রুট ৭-০-২৭-০, বেথেল ১১-০-৪৯-১, ব্রুক ২-১-৯-০)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৬৩) ৪৮ ওভারে ১৮২/৫ (ডাকেট ৯, গে ১১, বেথেল ০, রুট ৭৫*, ব্রুক ৫৮, রু ১৫, কক্স ০*; হেনরি ১৩-৩-২৬-১, জেমিসন ১৪-৪-৩৭-৩, ও’রোক ১০-২-৪৮-১, স্মিথ ৯-১-৪৮-০, রাভিন্দ্রা ২-০-১০-০)