Published : 23 Dec 2025, 08:52 PM
যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট অ্যামাজন উত্তর কোরিয়ার এজেন্ট সন্দেহে ১,৮০০ জনের বেশি চাকরিপ্রার্থীর আবেদন আটকে দিয়েছে। অ্যামাজনের এক শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।
অ্যামাজনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টিফেন শ্মিট লিংকডইনে এক পোস্টে বলেন, উত্তর কোরিয়রা চুরি করা অথবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দূর থেকে আইটি চাকরির জন্য আবেদন করার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, “তাদের লক্ষ্য সাধারণভাবে সোজাসাপ্টা। আর তা হল: চাকরিতে যোগ দেওয়া, বেতন নেওয়া এবং সেই অর্থ দিয়ে উত্তর কোরিয়া সরকারের অস্ত্র কর্মসূচিতে তহবিল জোগানো।”
স্টিফেন শ্মিট সতর্ক করে দিয়ে জানান, এই প্রবণতা কেবল অ্যামাজনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি খাত জুড়েই সম্ভবত বড় পরিসরে ঘটছে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ উত্তর কোরিয়ার এজেন্টদের এই ধরনের অনলাইন জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কও করেছে। শ্মিট তার পোস্টে জানান, গত এক বছরে অ্যামাজনে উত্তর কোরিয়দের চাকরির আবেদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।
তিনি বলেন, এই এজেন্টরা সাধারণত ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কাজ করে। ল্যাপটপ ফার্ম বলতে এমন কম্পিউটারকে বোঝায়, যা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত হলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশটির বাইরে থেকে পরিচালনা করা যায়।
শ্মিট বলেন, চাকরির আবেদনগুলো যাচাইয়ের জন্য অ্যামাজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কর্মী দিয়ে যাচাইকরণের সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই জালিয়াতরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম কৌশল কাজে লাগাচ্ছে।
পুরোনো ও অব্যবহৃত লিংকডইন অ্যাকাউন্ট দখল করে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। ভেরিফিকেশন পাওয়ার জন্য ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে লিংকডইনের এই নিষ্ক্রিয় একাউন্টগুলো জবরদখল করা হচ্ছে।
এমনকি সাধারণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রোফাইল নকল করে নিজেদের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা চলছে।
অ্যামাজনের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্টিফেন শ্মিট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাকরিদাতাদেরকেও উত্তর কোরিয়ার জাল চাকরির আবেদনের কিছু লক্ষণের বিষয়টিতে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান। যেমন: ভুল ফরম্যাটের ফোন নম্বর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে অসঙ্গতি।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছিল, তারা ২৯টি ‘ল্যাপটপ ফার্ম’ খুঁজে পেয়েছে যেগুলো উত্তর কোরিয়ার আইটি কর্মীরা দেশজুড়ে অবৈধভাবে ব্যবহার করছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, এই আইটি কর্মীরা উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকানদের চুরি করা বা জাল পরিচয় ব্যবহার করত।
তাছাড়া, উত্তর কোরিয়ার এজেন্টদের চাকরি পেতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন দালালদেরও দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
গত জুলাইয়ে অ্যারিজোনার এক নারীকে আট বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ৩০০টির বেশি মার্কিন কোম্পানিতে উত্তর কোরিয়ার আইটি কর্মীদের রিমোট চাকরি পাইয়ে দিতে ল্যাপটপ ফার্ম পরিচালনা করতেন।
বিচার বিভাগ জানায়, এর মাধ্যমে ওই নারী এবং পিয়ংইয়ং প্রশাসন ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ আয় করেছে।