Published : 18 Nov 2025, 05:53 PM
ভারতের রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় এই আত্মঘাতী হামলার মূল হোতা উমর মোহাম্মদ ওরফে উমর-উন-নবি’র রেকর্ড করা একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।
ভিডিওটি হামলাকারীর চিন্তাভাবনার প্রথম ঝলক তুলে ধরেছে, যেখানে তিনি ‘আত্মঘাতী বোমারুদের নিয়ে সমাজের ভুল ধারণা’ থাকার কথা বলেছেন।
সাধারণ বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আত্মঘাতী বোমার ফারাকটা কি, কেন আত্মঘাতী বোমারু বানানো হয়, সংক্ষেপে সেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন উমর। তদন্তকারীদের ধারণা, দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনার আগে এই ভিডিও তৈরি করেছিলেন উমর।
ভিডিওতে দেখা গেছে, সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী উমরের পরনে কালো টি-শার্ট। মুখে একগাল দাড়ি। পরিশিলিত বয়ানে এবং বিশুদ্ধ ইংরেজি উচ্চারণে তিনি আত্মঘাতী বোমারু নিয়ে বলতে শুরু করলেন।
উমরকে বলতে শোনা যায়, আত্মঘাতী বোমা হামলা নামে যে বিষয়টি পরিচিত, সেটি একেবারেই ভুল ধারণা। এটি আসলে একটি শহীদি অভিযান..ইসলামে এর পরিচিতি আছে। যাদের আত্মঘাতী বোমারু বলা হচ্ছে, আসলে তারা আত্মঘাতী বোমারু নন। তারা আসলে ইসলামের এক এক জন শহীদ।”
আত্মঘাতী বোমারু নিয়ে অনেক বাগ্বিতণ্ডা, তর্কবিতর্কও রয়েছে বলে উমর উল্লেখ করেন। ধীরস্থির ভঙ্গিতে একজন আত্মঘাতী বোমারুর মানসিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন উমর।
তিনি বলেন, শহীদি অভিযান এমন একটি বিষয় যেখানে একজন ব্যক্তি ধরে নেন যে, নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে তার মৃত্যু হবে। কিন্তু বাস্তবে কেউ ঠিক জানে না কখন বা কোথায় তার মৃত্যু হবে; যা নিয়ত, তা ঘটবেই। তিনি বলেন, “মৃত্যুকে ভয় পাবেন না।”
“যখন কোনও ব্যক্তি এটা মেনে নেন যে, তার মৃত্যু একটি নিশ্চিত সময়, নিশ্চিত স্থানে হবে, তখন তাকে একটি ভয়ানক মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তখন তিনি এটাই মেনে চলেন যে, মৃত্যুই তার একমাত্র গন্তব্য।
“একটা বিশেষ লক্ষ্যে, বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। আর তখন তাকে কেবল আত্মঘাতী বোমারু বলেই চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। আর এখানেই আত্মঘাতী বোমারু বা হামলা নিয়ে ভুল ধারণা সমাজের।’’
গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে হামলার হোতা হিসাবে অভিযুক্ত চিকিৎসক উমরেরও।
ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ। ভিডিওতে উমর আত্মঘাতী বোমা হামলাকে শহীদি অভিযানে মৃত্যুর মাধ্যমে বৈধতার আড়ালে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ ও স্পষ্টভাবে কথা বলা উমার খুব সংযত, শান্ত ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার। এতে বোঝা যায়, আগে থেকেই আত্মঘাতী বোমা হামলা ও শহীদি মৃত্যু নিয়ে তার বিশদ জ্ঞান রয়েছে।
এক তরুণ, শিক্ষিত ও উগ্রপন্থি মানুষ ভয়ঙ্কর এক অপরাধকে ন্যায্যতার আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভিডিওতে উমর নির্মম এক বাস্তবকে ঠান্ডা মাথায় উপস্থাপন করেছেন। এটি ভারতের জঙ্গিবাদের নতুন চেহারাও তুলে ধরেছে।
ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি লিখেছে, এ ভিডিওই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণ মোটেও দুর্ঘটনাজনিত ছিল না। এটি সুচিন্তিতভাবে পরিকল্পিত ছিল।
দিল্লি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্র থেকে জানা গেছে, জৈশ-ই-মুহম্মদ মতো সন্ত্রাসী সংগঠন এখন শিক্ষিত পেশাজীবী, বিশেষ করে চিকিৎসকদের দলে টানছে।
এ মাসের শুরুতে, ফরিদাবাদ থেকে বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছিল, তারা জৈশ-ই-মুহম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তঃরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, “তদন্তে একটি হোয়াইট কলার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক উদঘাটিত হয়েছে, যেখানে বিদেশি নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে উগ্রপন্থি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা, যারা পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
এই গ্রুপটি এনক্রিপ্টেড চ্যানেলের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা, সমন্বয়, অর্থ প্রেরণ ও লজিস্টিক পরিচালনা করছে। অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে পেশাগত ও শিক্ষাগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, সামাজিক বা দাতব্য কর্মকাণ্ডের আড়ালে।”