Published : 13 Mar 2025, 09:44 PM
সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কানাডা। দেশটির সরকার বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। সরকার এই সময়টিকে একটি ‘পরিবর্তনের সময়কাল’ বলে উল্লেখ করেছে।
রয়টার্স লিখেছে, বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার মধ্যে আছে কানাডাও। আসাদকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বাধীন বাহিনী গত বছর ক্ষমতাচ্যুত করে।
এক বিবৃতিতে কানাডার সরকার বলেছে, “এই পদক্ষেপ (নিষেধাজ্ঞা শিথিল) সিরিয়ার জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়ার প্রতিশ্রুতিরই অংশ।”
কানাডা সরকার সিরিয়ায় নতুন করে মানবিক সহায়তার জন্য ৮ কোটি ৪০ লাখ কানাডীয় ডলার দেবে বলে জানিয়েছে। তাছাড়া, “গণতন্ত্রায়ন, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং এই পরিবর্তনের সময়কালে দেশটির ভেতরে ও বাইরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আগামী ছয় মাসের জন্য শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এছাড়া, লেবাননে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত স্টেফানি ম্যাককলামকে সিরিয়ার জন্যও অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে অটোয়া।
কানাডা আরও বলেছে, তারা ছয় মাসের জন্য একটি সাধারণ অনুমতি মঞ্জুর করেছে, যা কানাডীয়দের জন্য নিষিদ্ধ আর্থিক লেনদেন এবং পরিষেবা ফের চালু করবে, যদি তা গণতন্ত্রায়ন, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
এছাড়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় কিছু নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে তহবিল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে, যার মধ্যে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও রয়েছে।
সিরিয়ার নতুন শাসকরা ইসলামপন্থি, যারা একসময় উগ্রবাদী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তবে তাদের নেতা আহমেদ আল-শারা ২০১৬ সালে ওই সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এদিকে, সিরিয়ার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে, কারণ প্রত্যক্ষদর্শী ও একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা দাবি করেছে, সরকার আলিউইত সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামগুলোতে শত শত বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনার তদন্ত করছে না।