Published : 06 Sep 2022, 12:20 AM
বরিস জনসন সরে যাওয়ার পর কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্ব জিতে আসা লিজ ট্রাসকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু এই নির্বাচনের জন্য কোনও সাধারণ ভোট হয়নি। বরং নিজ রাজনৈতিক দলের ১,৬০,০০০ এর বেশি সদস্য জনসনের উত্তরসূরি হিসাবে ট্রাসকে নির্বাচিত করেছেন; সদস্যদের এ সংখ্যা যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম।
তাহলে প্রশ্ন, এত কম সংখ্যক লোক কীভাবে দেশের নেতা নির্বাচন করতে পারেন? এর জবাব লুকিয়ে আছে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই।
যুক্তরাজ্যে কোনও প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদকালের মধ্যে পদত্যাগ ঘোষণা করলে সাধারণ নির্বাচন ডাকা হয় না। বরং ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা নতুন নেতা বেছে নেন।
এ প্রক্রিয়ায় নেতা বেছে নেওয়া এবারই প্রথম নয়। কখনও কখনও এর চেয়েও কম মানুষেরও নতুন নেতা বেছে নেওয়ার নজির আছে।
সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাসের জয় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে মার্গারেট থ্যাচার এবং টেরিজা মে-এর পর তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ট্রাস।
ট্রাসের এই পথ পরিক্রমায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত খুঁটিনাটি তুলে ধরেছে বিবিসি:
কখন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ট্রাস?
‘১৯২২ কমিটি অব কনজারভেটিভ ব্যাকবেঞ্চ’ এমপি’দের চেয়ারম্যান গ্রাহাম ব্র্যাডি ভোটের ফলে ট্রাসের জয় ঘোষণা করেন।
ট্রাস পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৬ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯৯ ভোট।
তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মঙ্গলবার রানি এলিজাবেথের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ ঘোষণা করবেন।
এর পরই ট্রাসকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন রানি। সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী, একজন প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই থাকতে হয়।
সেকারণেই একজন উত্তরসূরি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রী থাকতে হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণত রানি এলিজাবেথ বাকিংহাম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেটিই রীতি।
কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবার রানির হাত থেকে নিয়োগপত্র নেবেন।
টোরি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেছেন যারা:
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের সদস্যরা দুই প্রার্থী ঋষি সুনাক এবং লিজ ট্রাসের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিয়েছেন।
দলের সদস্যদের ভোট জিততে দুই প্রার্থীকেই যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রচার চালাতে হয়েছে। তাদের নীতি নিয়ে অনেকে অনেক প্রশ্নও করেছে।
কনজারভেটিভ সদস্যদের জন্য সব সভা-সমাবেশই ছিল উন্মুক্ত। দলের ওয়েবসাইটেও সবকিছুই এসেছে। সাংবাদিকদেরও অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কোনও প্রশ্ন করতে পারেনি।
সাধারণ নির্বাচন কি হবে?
একজন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে আপনা থেকেই সাধারণ নির্বাচন হয় না।
২০১৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পর টেরিজা মে এসে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন না দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এখন লিজ ট্রাস আগাম নির্বাচন না দেওয়ার পক্ষপাতি হয়ে থাকলে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে।
ভোট হয়েছে কীভাবে?
গত শুক্রবার ২ সেপ্টেম্বরে টোরি (কনজারভেটিভ) পার্টি সদস্যরা শেষ ভোট দিয়েছেন।
ভোট দিতে পারার জন্য সদস্যদেরকে ২০২২ সালের ৩ জুন কিংবা তার আগেই দলে যোগ দিতে হয়েছে।
দলের যোগ্য ভোটার বা সদস্যরা ডাকযোগে কিংবা অনলাইনে ভোট দিয়েছেন। আদতে সদস্যরা দু’বার ভোট দিতে পারেন এবং তাদের দ্বিতীয় ভোট গণনা হয়।
কিন্তু ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার এই ভোট প্রক্রিয়ায় বিদেশি কোনও রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা নেওয়ার ঝুঁকি আছে বলে বলে সতর্ক করার পর দলের পক্ষ থেকে সদস্যদেরকে কেবল একবারই ভোট দিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলের যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৭২, ৪৩৭ জন এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ।
জনসনের এখনও কী কী ক্ষমতা আছে?
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হাতে পদ্ধতিগতভাবে সব ক্ষমতাই থাকার কথা।
তবে বাস্তবিকপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোনও নতুন কোন নীতি প্রবর্তন করার এখতিয়ার এখন তার হাতে নেই। দিকনির্দেশনায় বড় কোনও পরিবর্তনও তিনি ঘটাতে পারবেন না।
দুই প্রার্থী কিভাবে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিলেন?
কনজারভেটিভ পার্টির ৩৫৭ জন এমপি কয়েকদফা ভোট দিয়েছেন। প্রতি দফাতেই যে প্রার্থী সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন তিনি বাতিল হয়ে গেছেন। এভাবে চূড়ান্ত দুই প্রার্থী বাছাই না হওয়া পর্যন্ত ভোট চলেছে।
চূড়ান্ত পর্যায়ের দুই প্রার্থী ছিলেন:
· সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক
· পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস
এর আগে ছয় প্রার্থী বাতিল হয়ে যান। তারা হলেন:
· বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি মর্ডান্ট (পঞ্চম দফা ভোট)
· সাবেক সমতা বিষয়ক মন্ত্রী কেমি বদেনখ (চতুর্থ দফা ভোট)
· ফরেইন এফয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান টম টুগেনধাত (তৃতীয় দফা ভোট)
· এটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্রাভারম্যান (দ্বিতীয় দফা ভোট)
· চ্যান্সেলর নাদিম জাহাওয়ি (প্রথম দফা ভোট)
· সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেরেমি হান্ট (প্রথম দফা ভোট)