Published : 13 Jun 2026, 01:30 AM
কানাডা প্রবেশের ভিসা পাননি ঘানার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার টমাস পার্টি। যার ফলে টরন্টোয় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়কালে পার্টির বিরুদ্ধে চার জন ভিন্ন নারীকে ধর্ষণের সাতটি অভিযোগ ও একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার অবশ্য শুরু থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
আগামী বছর ওই সব অভিযোগে তার মামলার মুখোমুখি হতে হবে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, সাবেক এই আর্সেনাল তারকার ভিসার আবেদন কানাডার সরকার প্রত্যাখান করায় তিনি জাতীয় দলের ট্রেনিং বেইস ক্যাম্প বস্টন থেকে কানাডায় সফর করতে পারবেন না।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা একই সঙ্গে এটাও জানিয়েছে যে, স্বাগতিক দেশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ফিফা হস্তক্ষেপ করে না।
“স্বাগতিক দেশের সরকারই নির্ধারণ করে থাকে, কে ভিসা পাবে এবং তাদের দেশে প্রবেশ করবে।”
কানাডিয়ান সরকারের ওয়েবসাইটে দেশটিতে ভ্রমণের পূর্ব শর্তস্বরূপ লেখা আছে, “যদি আপনি কোনো অপরাধ করে থাকেন অথবা কোনো অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়ে থাকেন, তবে আপনি হয়তো কানাডায় প্রবেশ করতে পারবেন না।”
বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে টরন্টোয় পানামার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ঘানার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে আতলেতিকো মাদ্রিদে সাত বছর কাটানো পার্টি বর্তমানে খেলছেন স্পেনের আরেক দল ভিয়ারেয়ালে। বিশ্বকাপের দলে তাকে রাখার সময়ই অবশ্য এই শঙ্কার বিষয়টি সামনে এসেছিল। তবে তার প্রতি আস্থা রাখার কথা জানান প্রধান কোচ কার্লোস কিরোস।
দলের প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারলেও, গ্রুপ পর্বের পরের দুটি ম্যাচ খেলতে কোনো বাধা নেই পার্টির। ‘এল’ গ্রুপে পরের ম্যাচে আগামী ২৩ জন তারা খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, বস্টনে। আর শেষ ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় আগামী ২৭ জুন তারা মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।
যৌথভাবে তিন দেশে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে ভিসা-জটিলতা অবশ্য এই প্রথম নয়।
এর আগে শিকাগো বিমানবন্দরে ইরাকি স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়।
ইরান দলকে তো তাদের বেইস ক্যাম্পের স্থানই বদলে ফেলতে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে গিয়ে তারা মেক্সিকোয় ক্যাম্প করেছে। দেশটির ফুটবল সমর্থকদের ভিসা বাতিলের খবরও মিলেছে। শুধু তাই নয়, ইরান দলের ম্যানেজারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা দেওয়া হয়নি।
সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্তানকেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের’ সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকাটাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।