Published : 26 Apr 2026, 02:18 PM
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের আশা নতুন আরেকটি সপ্তাহের শুরুতেই ম্লান হয়ে গেছে। দুই মাস ধরে চলা সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে শুরু হওয়া আলোচনা স্থবির একটি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে আর তেহরান ও ওয়াশিংটন, উভয়েই তাদের শর্ত নমনীয় করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
রয়টার্স লিখেছে, শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে কিছু না দিয়েই ইসলামাবাদ ছেড়েছেন। আর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত সফর বাতিল করেছেন। এতে শান্তির সম্ভাবনা উভয় দিক থেকে ধাক্কা খেয়েছে।
এই অচলাবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শক্তিকে এক সংঘাতের মধ্যে আটকে ফেলেছে। নবম সপ্তাহে প্রবেশ করা এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অনেক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে, এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে আর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ম্লান হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ফোনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বলেছেন, হুমকি ও অবরোধের মধ্যে ‘চাপিয়ে দেওয়া আলোচনায়’ প্রবেশ করবে না তেহরান। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটিই বলা হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনাকারীরা কোনো ভিত্তি স্থাপন করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে ইরানি বন্দরগুলোতে আরোপ করে রাখা অবরোধসহ ‘কার্যকরী প্রতিবন্ধকতা’ দূর করা।
আরাকচি পাকিস্তানে তার সফরকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তেহরানের আপত্তিগুলোর বিষয়ে প্রশ্নে ইসলামাবাদে ইরানের এক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা দাবি’ গ্রহণ করবে না।
ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি মার্কিন দূতদের সফর বাতিল করেছেন কারণ ইরানিদের কাছ থেকে আসা একটি অপর্যাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনা করতে আলোচনার জন্য অনেক ভ্রমণ ও ব্যয় করতে হতো।
ট্রাম্প জানান, মার্কিন কূটনৈতিক সফর বাতিল হওয়ার পর ইরান ‘অনেক কিছু প্রস্তাব করেছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়।”
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইরানের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ‘প্রচণ্ড অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিভ্রান্তি’ বিরাজ করছে।
পোস্টে তিনি বলেছেন, “তারা সহ কেউ জানে না কে দায়িত্বে আছে। পাশাপাশি সব তাস আমাদের হাতে, তাদের কাছে কিছু নেই! তারা যদি আলোচনা করতে চায়, তাদের শুধু ফোন করতে হবে!!!”
বৃহস্পতিবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, তেহরানে ‘কোনো মধ্যপন্থি বা কট্টরপন্থি নেই’ আর পুরো দেশ সর্বোচ্চ নেতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ আছে। ইরানের প্রধান আলোচক পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ ও আরাকচিও সম্প্রতি একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
আরও পড়ুন:
ওমানে আরাকচি, কূটনীতি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন