Published : 09 Jul 2026, 04:50 PM
তেহরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরপর দুই দিনের হামলায় ১৪ জন নিহত ও আরও ৭৮ জন আহত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে 'শক্তিশালী' হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি লিখেছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক অঞ্চলে এই এসব হামলা চালানো হয়। তখন এসব হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছিল তারা।
এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ভোররাতে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮৫টি লক্ষ্যস্থলে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
এরপর নেটোর সম্মেলন উপলক্ষ্যে তুরস্কে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ ঘোষণা করে বুধবার রাতে দেশটিতে ‘তীব্র আঘাত’ হানা হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশ ও উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক লক্ষ্যস্থলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, ইরানের হরমোজগান ও মাহশহর উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আর সামরিক নয় এমন স্টেশনগুলোতে আকাশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর এক্স এ এক পোস্টে বলেন, “আহতদের মধ্যে ৪৭ জন এখনো হাসপাতালে আছে। আর বাকিদের প্রথামিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই এসব হামলা ও পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকের নাফাজ থেকে ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে খামেনিকে দাফন করার কথা।
আইআরজিসি মার্কিন হামলাকে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, এই ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে’ ম্লান করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরানে আরো হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা ইরানের
ট্রাম্পের মন্তব্য পশ্চিম এশিয়ায় 'আগুন ধরানোর ঝুঁকি' তৈরি করছে: ইরান