Published : 12 Jan 2026, 08:03 PM
সরকারবিরোধী আন্দোলনে পর্যুদস্ত ইরান। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাব নিয়ে পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বললেন, “আলোচনার জন্য ফোন করেছে ইরান।” রোববার ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়ে ফোন করেছে। তবে ইরানে যা ঘটছে, তাতে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
“ইরান আলোচনা করতে চায়, হ্যাঁ। আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারি। একটি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু এই বৈঠকের আগেই যা ঘটছে তার কারণে হয়ত আমাদেরকে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে,” এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের একথা বলেন ট্রাম্প।
তবে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে এবং দেশটির বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
২০২২ সালের পর এবারই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে ইরানের সরকার। ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে বলছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এই হুমকির মুখে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তু বলে জানালেও বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন, "আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম খোলা রয়েছে এবং যখনই প্রয়োজন হচ্ছে বার্তা বিনিময় করা হচ্ছে।"
ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যস্থতাকারী সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমেও যোগাযোগের পথ খোলা আছে বলে তিনি জানান। তবে বাঘাই অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ থেকে বোঝা যায় তারা এ বিষয়ে আন্তরিক নয়।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ট্রাম্প তার উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে বিকল্প পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি এবং সরকারবিরোধী পক্ষগুলোকে অনলাইন সহায়তা প্রদান করা।
ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের অভিযোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের একদফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনো তথ্য দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট থাকায় তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।