Published : 08 Jun 2026, 09:37 PM
টানা দুই হার দিয়ে আসর শুরু করা শিরোপাধারী আবাহনী নাটকীয় জয়ে শিরোপাভাগ্য নিজেদের হাতে রেখেছে। দশম রাউন্ডে হারের পরও সম্ভাবনা বেঁচে আছে মোহামেডানের। তবে শেষ রাউন্ডে আবাহনীকে তাদের কেবল হারালেই চলবে না, অন্য ম্যাচে হারতে হবে শিরোপা লড়াইয়ে থাকা আরেক দল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবেরও।
দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিনে প্রাইম ব্যাংক ছোট পুঁজি নিয়েও জিতে সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে। নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে তাদের এবং কামনা করতে হবে আবাহনীর পরাজয়ের।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা চার জয়ের পর ঢাকা লেপার্ডসের কাছে হেরেছে মোহামেডান। অন্য ম্যাচে হারের দুয়ার থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে আবাহনী।
জমজমাট দশম রাউন্ড শেষে শিরোপা লড়াইয়ে থাকা তিন দলের পয়েন্ট সমান ১৬। একাদশ রাউন্ডের ফলাফলের ভিত্তিতে আবাহনী, মোহামেডান ও প্রাইম ব্যাংকের যে কোনো একটি দল জিতবে শিরোপা।
মোহামেডানের সামনে সুযোগ ছিল দুই পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শেষ রাউন্ডে মাঠে নামার। কিন্তু বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে তাদের ৫ উইকেটে হারিয়ে সব হিসেব পাল্টে দেয় ঢাকা লেপার্ডস।
জাতীয় দল ও ইমার্জিং দলের ক্রিকেটাররা না থাকায় একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে হয় ঐতিহ্যবাহী দলটিকে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট ছিল স্কোরবোর্ডে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ৬৮ আর আফিফ হোসেনের ৩৯ রানের সৌজন্যে ৮ উইকেটে ২২৫ রানে থামে মোহামেডানের ইনিংস। এছাড়া ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ রান করেন সাইফউদ্দিন।
জবাবে, মমিনুল হকের ৭৭ বলে অপরাজিত ৯৩ ও জাওয়াদ আবরারের ৩৪ বলে ৬৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৪.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করে লেপার্ডস। মমিনুল ইনিংসটি সাজান পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কা। আর জাওয়াদের ইনিংসটি গড়া পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কায়।
মোহামেডানের হয়ে তাইজুল ইসলাম ৫৩ রানে নেন দুই উইকেট।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গাজী গ্রুপের বিপক্ষে ২২১ রানের ছোট পুঁজি পায় অনেক খেলোয়াড় হারানো আবাহনী। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৬৬ ও মেহেরব হাসান করেন ৪০ রান।
এই মাঝারি লক্ষ্যে ৩৪তম ওভারে ১৩৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে গাজী।
তখনই নাটকীয়তার শুরু। দশম উইকেটে আজিজুল হাকিম রনিকে সঙ্গে নিয়ে রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ৭৪ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে নাটকীয় এক জয়ের সম্ভাবনা জাগায় গাজী।
তবে ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে ইকবাল হোসেন ইমনের ভেতরে ঢোকা দারুণ এক ডেলিভারিতে আজিজুল বোল্ড হলে ১২ রানের স্বস্তির জয় পায় আবাহনী।
আবাহনীর চেয়েও স্বল্প পুঁজি নিয়ে জয় তুলে নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। পিকেএসপিতে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। দলটির হয়ে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৪৮ বলে ৫৮ রান করেন আবু হায়দার রনি। এছাড়া ৫৫ বলে ২৬ রান আসে আরিফুল ইসলামের ব্যাট থেকে।
জবাবে, টিপু সুলতানের বোলিং তোপে এই লক্ষ্যও তাড়া করতে পারেনি বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। দারুণ চেষ্টা করেন সানজামুল ইসলাম (৮৮ বলে ৫৭) ও নাহিদুল ইসলাম (৩৯ বলে ৩৫)। তবে ১৮ রানের নাটকীয় জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
শেষ রাউন্ডে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্রাইম ব্যাংক।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরেছে অগ্রণী ব্যাংক। আগে ব্যাট করতে নেমে মাহফিজুল ইসলামের ১০৯ বলে ৯১ ও রবিউল হকের ২৭ বলে ঝড়ো ৫০ রানের সৌজন্যে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে থামে অগ্রণী ব্যাংকের ইনিংস। মাহফিজুলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও এক ছক্কা। আর রবিউল হাঁকান ছয় ছক্কা।
জবাবে, রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ১১৭ বলে ৮৭ ও আব্দুল মজিদের ৭৫ বলে ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন।
ইউল্যাব মাঠে হাবিবুর রহমান সোহানের ৫৮ বলে ১৩০ রানে ৩২২ রান করে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ৪৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সোহান হাঁকান আটটি চার ও ১৩টি ছক্কা। বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটা দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।
লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনার সাদিকুর রহমানের ১০১ রানের পরও ২৪৮ রানে থামে সিটি ক্লাব। সাদিকুরের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও চার ছক্কা।