Published : 21 Jan 2026, 11:09 PM
গাজা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে (বোর্ড অব পিস) যোগ দিতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ওদিকে, ইসরায়েলও এ পর্ষদে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
যেসব দেশ প্রথম প্রকাশ্যে শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার অন্যতম সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার তারা এই পর্ষদে যোগ দিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার খবর জানায়।
আরব উপদ্বীপের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির প্রশংসা করেছে। গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং তার প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম চুক্তির’সাফল্যের কথা সেখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বলেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি।"
তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর আমিরাতের অগাধ আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার তার দপ্তর জানায় তিনি শান্তি পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন।
দপ্তর থেকে বলা হয়, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)- এর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার পরও তিনি ‘গাজা শান্তি পর্ষদের’ সদস্য হিসাবে যোগ দেবেন। গাজায় মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৩ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
নেতানিয়াহু শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ায় এই পর্ষদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে ট্রাম্প এই পর্ষদের সদস্যপদ এবং পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কারণে।
গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধের পর সেখানকার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই শান্তি পর্ষদ বা বোর্ড অব পিস-কে।
ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এই বোর্ডের নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন। ওই সফরের ধারাবাহিকতায় এবার তার এই প্রস্তাবে বড় ধরনের সমর্থন পেল ওয়াশিংটন।
অন্তত ৫০ টি দেশ এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোও যেমন আছে তেমনি আছে শত্রুদেশ রাশিয়া এবং চীন। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
পাকিস্তান এবং মিশরও শান্তি পর্ষদে যোগ দেবে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে। আর সম্মতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাত ছাড়াও আছে- মরোক্কো, আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি ও বেলারুশ।
এছাড়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া এবং কাতারও এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই ‘শান্তি পর্ষদ’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার এই পর্ষদের সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তার আশঙ্কা, এই ‘বোর্ড অব পিস’ জাতিসংঘের কার্যকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।