এআইয়ে কার চাকরি গেল? জানতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পোর্টাল
ট্র্যাকারের মাধ্যমে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, লিঙ্গ, কর্মক্ষেত্র বা শিল্পখাত, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় এবং অঞ্চলভেদে কোন কোন দল এআইয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে তা দেখা যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে কত মানুষ কাজ হারাচ্ছেন তা প্রতি মাসে নিখুঁতভাবে নজরদারি করতে বিশেষ এক অনলাইন ট্র্যাকার চালু করেছে মার্কিন অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া।
অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের উদ্যোগে তৈরি এ ‘আগাম সতর্ক ব্যবস্থা’ পোর্টালটির মাধ্যমে বয়স, লিঙ্গ ও অঞ্চলভেদে এআইয়ের কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি ট্র্যাক করা যাবে।
এমন পদক্ষেপ ক্ষতির মুখে পড়া কর্মীদের সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় বলেছে, এআইয়ের কারণে ব্যাপক আকারে চাকরিচ্যুতির বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে এ পোর্টাল ‘আগেভাগে সতর্ক সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা’ হিসেবে কাজ করবে। ফলে সরকার আগে থেকে বুঝতে পারবে, ঠিক কোন খাতে ও কোথায় বেশি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়েছে, এআই-সম্পর্কিত চাকরির ক্ষতি পরিমাপের জন্য গভর্নর নিউসমের কার্যালয় ‘ক্যালিফোর্নিয়া এমপ্লয়মেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ ও ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র ‘ক্যালিফোর্নিয়া পলিসি ল্যাব’-এর সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা চালিয়েছে।
ট্র্যাকারটির ডেটা বা পরিসংখ্যান তৈরিতে তারা বেকারত্ব বীমার দাবির ডেটার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাবের বিভিন্ন মাত্রা সমন্বয় করেছেন। যে কেউ চাইলে এ ডেটা নিজেরা দেখতে পারবেন ও ট্র্যাকারটি প্রতি মাসে আপডেট করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, বর্তমানে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দূরদর্শী হওয়ার জন্য আশপাশ থেকে চাপ বাড়ছে, এ সময়ই ট্র্যাকারটি তৈরি হল।
রাজনীতিবিদরা এখন এআইয়ের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের রক্ষাকর্তা হিসেবে নিজেদের জাহির করতে বেশ আগ্রহী, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি সত্যি। কারণ অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মূল আস্তানা এখানেই।
গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যে আদেশে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মীদের ওপর এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ট্র্যাকারের মাধ্যমে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, লিঙ্গ, কর্মক্ষেত্র বা শিল্পখাত, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয় এবং অঞ্চলভেদে কোন কোন দল এআইয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে তা দেখা যাবে।
প্রাপ্ত ডেটা অনুসারে, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণরা এআই-সম্পর্কিত কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং পুরুষদের তুলনায় নারীরা এ ঝুঁকিতে আছেন বেশি।
এ ট্র্যাকারে ব্যবহৃত ডেটা নিয়ে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্র্যাকারটিকে চূড়ান্ত বা অকাট্য নির্দেশিকা হিসেবে ধরা উচিত হবে না। কারণ, ট্র্যাকারটি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করতে পারে না, কোনো নির্দিষ্ট চাকরি কেবল এআইয়ের কারণেই গেছে কি না। কারণ, ট্র্যাকারে দৃশ্যমান এসব প্রবণতা অন্যান্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও ঘটতে পারে।
