Published : 08 Aug 2025, 10:39 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবার পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশ আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যকার কয়েক দশকের বৈরিতা অবসানের কৃতিত্ব দাবি করলেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজে দুই দেশের নেতাকে নিয়ে এক ‘ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানেই দুইজনের মধ্যে চুক্তি সই হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে ট্রাম্প লেখেন, “আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ শুক্রবার আমার সঙ্গে হোয়াইট হাউজে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
“এই দুই দেশ (আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান) বহু বছর ধরে যুদ্ধ করছে। এতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ থামানোর জন্য বহু নেতা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোনও সাফল্য পাননি। ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।
“আমার প্রশাসন বেশ কিছু সময় ধরে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমি খুবই গর্ববোধ করছি যে, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সাহসিকতার সঙ্গে সঠিক কাজটি করছেন।”
ওয়াশিংটনে বৈঠকের খবর এ সপ্তাহের শুরুর দিকেই পাওয়া গিয়েছিল, যখন আর্মেনিয়া সরকার টেলিগ্রামে এক বিবৃতি দিয়ে এই বৈঠকের ঘোষণা দেয়।
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুই দেশই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৮০’র দশকের শেষ দিক থেকে বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের দখল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলে আসছে।
মূলত নাগোরনো-কারাবাখ সোভিয়েত আমলে আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের অধিকাংশই আর্মেনীয়। আর্মেনিয়ার সমর্থনের ভিত্তিতে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুই দেশই নাগোরনো-কারাবাখকে নিজেদের বলে দাবি করে। বিতর্কিত এই অঞ্চল নিয়ে দুবার যুদ্ধ করেছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান।
২০২৩ সালে আজারবাইজান যুদ্ধে আর্মেনিয় বাহিনীর হাত থেকে অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করে। এর ফলে এক লাখের বেশি জাতিগত আর্মেনীয় দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘদিনের এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দুই দেশ আলোচনাও করেছে। গত মাসেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুপক্ষের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।
আল-জাজিরা জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন এই দুই দেশের সংঘাত নিরসনের চেষ্টা বাড়ায় এবছর মার্চ থেকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ওই অঞ্চলে পাঠান।
ট্রাম্প এর আগে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। তাছাড়া, কিছুদিন আগে কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাত থামানোর কৃতিত্বও তিনি পেয়েছেন।
সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের ভূমিকাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলেছে হোয়াইট হাউজ এবং কম্বোডিয়াও। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের এই ভূমিকার জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন।