Published : 27 Jun 2026, 08:55 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি ইনস্টিটিউটের ছয়টি বিভাগ চালুর আগে একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসন দাবি জানিয়েছেন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম বার্ষিক সিনেট সভায় প্রস্তাবিত ‘ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি’-এর সংবিধি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিভাগগুলো হল- আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার, ইসলামিক ল, ফিকহ অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স, ইসলামিক ফিলোসফি, এথিকস অ্যান্ড কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন এবং অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন- জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর প্ল্যাটফর্মের সংগঠক তাসনীম ইয়াসমিন তন্বী, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরী।
তারা জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, প্রস্তাবিত ছয়টি নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে সিনেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭টি বিভাগই অবকাঠামো, শিক্ষক ও ল্যাব-সংকটসহ নানা সমস্যায় রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানও এখনো প্রণীত হয়নি।
তাদের দাবি, বিদ্যমান সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা ছাড়া নতুন বিভাগ চালু করা বাস্তবসম্মত হবে না। একইসঙ্গে নতুন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থাও বর্তমানে নেই বলেও তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া স্মারকলিপিতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণা কেন্দ্রগুলো কার্যকর করা, থিসিস গবেষণার জন্য ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছাপাখানা স্থাপন, বিভাগগুলোর ক্লাসরুম ও ল্যাব-সংকট নিরসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, সান্ধ্যকালীন ও উইকেন্ড কোর্স বন্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালুর দাবি জানানো হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, “আমাদের আপত্তি নতুন বিভাগ খোলার ধারণার বিরুদ্ধে নয়; আপত্তি হলো বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে।
“বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি বিভাগ চলমান রয়েছে। অথচ এসব বিভাগের জন্য কোনো সমন্বিত একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান নেই। অনেক বিভাগে শ্রেণিকক্ষের সংকট, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব, সেশনজট ও ইয়ার গ্যাপের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।”
তিনি বলেন, “সিসিএসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের অটোমেশনেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিদ্যমান বিভাগগুলোর এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে নতুন ছয়টি বিভাগ চালুর উদ্যোগকে আমরা অযৌক্তিক মনে করি।”

“শুধু একাডেমিক নয়, অবকাঠামোগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ঘাটতি রয়েছে। ক্যাম্পাসে এখনও আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই, নিজস্ব ছাপাখানা নেই, আর উন্নয়ন কার্যক্রমও অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে; যা পরিবেশ, মানুষ এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর”, বলেন এই ছাত্রনেতা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসন আগে একটি সমন্বিত একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করুক। বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি), আইন বিভাগসহ বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে।
এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের আগে নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।