Published : 27 Jun 2026, 08:49 PM
দুই পায়ের নৈপুণ্যে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন হায়ান। সামনের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন, নকআউট পর্বের লড়াই। যেখানে পা হড়কালেই সব শেষ। সেই পথেই প্রথম প্রতিপক্ষ জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
হিউস্টনে আগামী সোমবার শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে এশিয়ান দলটির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে একটি জয় ও দুই ড্রয়ে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে জাপান, আর দুই জয় ও এক ড্রয়ে ‘সি’ গ্রুপের সেরা হয়েছে সেলেসাওরা।
বিশ্বকাপে এর আগে কেবল একবারই মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি, ২০০৬ আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে ৪-১ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল।
তবে, দলটির বিপক্ষে সবশেষ লড়াইয়ে বড় এক ধাক্কা খায় কার্লো আনচেলত্তির দল। গত অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে যায় জাপান।
ওই ম্যাচে অবশ্য ছিলেন না হায়ান। তবে, গ্রুপ পর্বে অপরাজিত দলটিকে নিয়ে নিজেরা যে বেশ সতর্ক, শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
“আমরা জানি, জাপান খুব শক্তিশালী একটা দল। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার এবং তাদেরকে হারানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।”
জাপানের সরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের প্রশ্নে অবশ্য একটু বেকায়দায় পড়ে যান হায়ান। সামনের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যে খুব পরিষ্কার ধারণা তার নেই, সেটাও পরিষ্কার হয়ে যায়।
জাপান দলের সেরা খেলোয়াড় কে?- ওই সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে বিব্রত হয়ে হায়ান বলেন, “আমি জানি না, তাদের সেরা খেলোয়াড় কে। আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আগে তাদের (জাপানের) খেলার ভিডিও দেখতে হবে আমার।”
বোর্নমাউথের হয়ে খেলা হায়ানের জাতীয় দলে অভিষেক এই বছরেই, গত এপ্রিলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। মাত্র দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে জায়গা পেয়ে যান বিশ্বকাপ দলে।
আর বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে রাফিনিয়া চোট পেলে, প্রথমার্ধেই তার জায়গায় বদলি নামেন হায়ান। পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে যান প্রথম একাদশে এবং ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই দলের এগিয়ে যাওয়া গোলে অবদান রেখে উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখেন তিনি।
প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের থেকে বল কেড়ে নিয়ে ১৯ বছর বয়সী হায়ান বাড়ান ভিনিসিউস জুনিয়রকে এবং দলকে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড। সেই সঙ্গে পেলের পর ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েন তিনি। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে সতীর্থের গোলে অবদান রেখেছিলেন পেলে।
এছাড়া, দেশের ফুটবল ইতিহাসে কেবল ষষ্ঠ টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার কীর্তিও গড়েছেন হায়ান, আর ১৯৭০ আসরের মার্কো আন্তোনিওর পর প্রথম।