১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবার এমবাপের জোড়া গোল, ভয়ঙ্কর-সুন্দর ফ্রান্স

একটি জায়গায় মেসির পাশে বসলেন এমবাপে, আরেকটি জায়গায় পৌঁছে গেলেন খুব নিকটে, অনন্য কীর্তি গড়ে শেষ ষোলোয় উঠল ফ্রান্স।

আবার এমবাপের জোড়া গোল, ভয়ঙ্কর-সুন্দর ফ্রান্স
গোল করে ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2026, 06:27 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

শুরুতেই একটি সুযোগ পেল সুইডেন। এরপর থেকে যা হলো, তার কোনো জবাব খুঁজে পেল না দলটি। আক্রমণের তোড়ে তাদের ভাসিয়ে দিল ফ্রান্স। এক ম্যাচ পরই আবার জোড়া গোলের আনন্দে মাতলেন কিলিয়ান এমবাপে। অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল দিদিয়ে দেশোঁর দল।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে তাদের অন্য গোলদাতা ব্রাডলে বার্কোলা।

ব্যবধান হতে পারত আরও অনেক বড়। প্রথমার্ধে এমবাপে ও মাইকেল ওলিসের একটি করে শট লাগে পোস্টে। এছাড়া সুইডিশ গোলরক্ষক সেভ করেন ৯টি। কোনো গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করেন ওলিসে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়ল ফরাসিরা।

ম্যাচ জুড়ে ফ্রান্সের একচেটিয়া দাপটের প্রমাণ মেলে অন্যান্য পরিসংখ্যানেও। ৬১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য মোট ২৫টি শট নেয় তারা, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। সুইডেনের আট শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করেছিলেন এমবাপে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জালের দেখা না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নকআউটের শুরুতে আবার জোড়া গোল করে যথারীতি ফের রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান ২৭ বছর বয়সী তারকা।

দুই ব্রাজিলিয়ান লেওনিদাস (৮) ও রোনালদোকে (৮) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি (১০)। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার তিনি এখন এককভাবে (১৮)। একটি গোল বেশি নিয়ে চূড়ায় লিওনেল মেসি (১৯)। 

চলতি আসরে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় অবশ্য মেসির পাশে বসেছেন এমবাপে, দুজনেরই ৬টি করে।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগটি পান সুইডেন তারকা আলেকসান্দার ইসাক। তবে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট করেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।

একটু পর থেকে শুরু হয় ফ্রান্সের টানা আক্রমণ। পঞ্চদশ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চেষ্টা করেন লুকা জিনিয়া। তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর দূর থেকেই গোলরক্ষক বরাবর শট করেন এমবাপে।

১৯তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে উড়িয়ে মারেন বার্কোলা। পরের মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান এমবাপে, কিন্তু অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।

৩০তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ফ্রান্স। বক্সে আদ্রিয়াঁ হাবিওর কোনাকুনি শট পা দিয়ে ঠেকান সুইডেন গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুম। ৩২তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন এমবাপে। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে জুল কুন্দের চমৎকার কাটব্যাক পেয়ে শট নেন তিনি, কিন্তু বল পোস্টে লাগে।

চার মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিক করেন ওলিসে। আসরের সেরা গোলগুলোর একটি হতে পারত এটি। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টাও পোস্টে বাধা পায়।

৪৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের জোরাল নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন সুইডেন গোলরক্ষক। ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ওলিসে ও দেম্বেলে হয়ে বল পান এমবাপে। বক্সে প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে জোরাল বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

গোল করেই ছুটে গিয়ে ডাগআউটে কোচ দেশোঁকে জড়িয়ে ধরেন এমবাপে। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফেরায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন না ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে ওলিসের চমৎকার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন বার্কোলা।

৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন জেততেরস্ত্রুম। ৭১তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান তিনি। এবার বক্সে ঢুকেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি ওলিসে।

৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এমবাপে। ওলিসের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। 

নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে এই দুজনকেই এক সঙ্গে তুলে নেন কোচ। শেষ দিকে দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইডেন, কিন্তু গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা।

কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপে যেখানে অনন্য ফ্রান্স

রোনালদো-লেওনিদাসকে টপকে চূড়ায় এমবাপে

আইভরি কোস্টকে হারিয়ে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে