Published : 10 Nov 2025, 12:02 AM
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তিনি ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি। তবে যুদ্ধ শেষ করার জন্য মূল শর্তগুলো থেকে সরে আসবে না তার দেশ।
রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং আমি দুজনই নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা বুঝি। ইউক্রেইন নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এটি জরুরি। তাই আমরা টেলিফোনে কথা বলি এবং প্রয়োজনে মুখোমুখি বৈঠক করতেও প্রস্তুত।”
তবে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবিগুলোও তিনি সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধের মূল কারণগুলো আলোচনায় আসতে হবে বলে ল্যাভরভ দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দৃষ্টিকোণ হল: রাশিয়ার স্বার্থের বিষয়গুলোকে বিবেচনায় না নিলে এবং যুদ্ধের মূল কারণগুলো দূর করা না হলে ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়।”
ব্যর্থ ট্রাম্প উদ্যোগ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেইন যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, শেষ করতে উদ্যোগ নিলেও তা এখনও সফল হয়নি।
গত মাসে ট্রাম্প হঠাৎ করে হাঙ্গেরিতে নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠক বাতিল করেন, যেখানে তার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল।
এর পর পশ্চিমা গণমাধ্যমে খবর ছড়ায়, বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় পুতিনের সঙ্গে ল্যাভরভের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। তবে ক্রেমলিন শুক্রবার তা অস্বীকার করেছে।
আলাস্কা ‘সমঝোতার’ ইঙ্গিত
প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেইনে সেনা পাঠানোর পর থেকে রাশিয়া এখন দেশটির প্রায় ১৯ শতাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে আছে—যা মস্কো ‘রাশিয়ার অংশ’ বলে ঘোষণা করেছে। তবে কিইভ ও পশ্চিমা দেশগুলো সেটি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ল্যাভরভ বলেন, গত ১৫ অগাস্ট আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজের সামরিক ঘাঁটিতে পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠকে যেসব সমঝোতা হয়েছিল, তা পুতিনের গত বছরের জুনে দেওয়া শর্ত এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছিল।
অ্যাঙ্কোরেজের সেই ‘সমঝোতা’ এখনও কার্যকর আছে কিনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য রাশিয়া অপেক্ষা করে আছে বলে জানিয়েছেন ল্যাভরভ।
পুতিনের শর্ত:
২০২৪ সালের জুনে পুতিন যে শর্ত রেখেছিলেন তা হল: ইউক্রেইনকে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোতে যোগদানের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে।
রাশিয়া যে চারটি অঞ্চলকে (দনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া) নিজেদের বলে দাবি করছে সেখান থেকে ইউক্রেইনকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
বর্তমানে রাশিয়া পুরো ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ, প্রায় পুরো লুহানস্ক, দনেৎস্কের ৮০ শতাংশ, এবং খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
কিইভের অবস্থান অপরিবর্তিত:
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার দখলকৃত এলাকাগুলোকে অস্থায়ীভাবে দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করা যেতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে সেগুলো রাশিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কোনও সাংবিধানিক ক্ষমতা তার নেই; তাতে ইউক্রেইন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা আরও রুশ হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
ইউরোপে জব্দ ২১০ বিলিয়ন ইউরো নিয়ে হুঁশিয়ারি:
ইউরোপে রাশিয়ার ২১ হাজার কোটি ইউরো জব্দ করে তা ইউক্রেইন পুনর্গঠনে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, “এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। যদি তারা তা করে, রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।”
তাছাড়া, তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মস্কোকে জানিয়েছে যে, তারা নিউ স্টার্ট অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ চুক্তির নির্ধারিত সীমা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষের পরও বহাল রাখার পুতিনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে।