Published : 08 May 2025, 09:32 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন একটি কড়া চিঠি লিখেছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে। এই কড়া বার্তা দিতে গিয়ে উল্টো চিঠিটির কারণে গোটা দেশজুড়েই তিনি হয়েছেন উপহাসের পাত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে চিঠিটি ভাইরাল হয়েছে। বিদ্রূপ করে অনেকেই লিন্ডাকে ব্যাকরণ শেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালান গারবারকে পাঠানো ওই চিঠিটি এক্সে নিজেই পোস্ট করেছিলেন লিন্ডা। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আর কোনও ফেডারেল অনুদান না দেওয়ার কথা জানান তিনি।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল আইন, নৈতিক মানদণ্ড এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি লঙ্ঘন করছে বলে চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চিঠির বিষয়বস্তু নয়, বরং চিঠি লেখার ধরনই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নজরে পড়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয় চিঠিটি।
এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চিঠির নানা ভুল চিহ্নিত করে লাল কলম দিয়ে। এক্সে তাদের ছড়িয়ে দেওয়া একাধিক পোস্টে দেখা যায়, তিন পাতার চিঠিটি ভুলে ভরা। পরীক্ষার খাতার ধরনে চিঠিটিতে বানান ভুল, অদ্ভুত বাক্য গঠন আর অপ্রয়োজনীয় বড় হাতের অক্ষর লাল কালিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এনডিটিভি জানায়, সমালোচকরা লিন্ডার চিঠিটিকে ‘ভুল ব্যাকরণের যথেচ্ছ ব্যবহার’ এবং ‘অশিক্ষিতের এলোমেলো লেখনী’ আখ্যা দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “এটি কি কোনও হাইস্কুলের শিক্ষার্থী লিখেছে?
আরেকজন লিখেছেন, “অবিশ্বাস্য, শিক্ষামন্ত্রী নিজেই অশিক্ষিত।” অন্য আরেকজন লিখেন, “এলোমেলো বড় হাতের অক্ষরের মানে কী? আপনি কি চিঠিটি প্রুফ রিড করেননি?”
কয়েকমাস ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ,এসব প্রতিষ্ঠান তাদের ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষী কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
এ অভিযোগে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল, কর ছাড় এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপরও খড়গহস্ত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতাতেই শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন চিঠিতে অভিযোগ করেন যে, হার্ভার্ড সহিংসতায় লিপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে।
তিনি ঘোষণা দেন, “হার্ভার্ডের আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও অনুদানের আবেদন করা উচিত হবে না। কারণ এমন কোনও অনুদান দেওয়া হবে না।”
জবাবে হার্ভার্ড বলেছে, এই পদক্ষেপ তাদের দায়ের করা একটি মামলার প্রতিশোধ। গত ২১ এপ্রিল হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ২২০ কোটির বেশি ডলারের সরকারি অনুদান আটকে রাখার বিরুদ্ধে হার্ভাড এই মামলা করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে এক বিবৃতিতে হার্ভার্ড বলেছে, এই অনুদান বন্ধ হলে “জীবন রক্ষাকারী গবেষণা ও উদ্ভাবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তারা এই হুমকিকে ‘নজিরবিহীন ও অনৈতিক’ আখ্যা দিয়েছে।