Published : 21 May 2026, 01:38 PM
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখছে তারা। যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ইরান তাদের সর্বশেষ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, তারই জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা নূর নিউজের দেওয়া উদ্ধৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের মতামত পেয়েছি আর সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি।”
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে হিসেবে কাজ করছে। এবারও তারাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ইতোমধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাকায়ি।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নকভি তেহরানে ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান স্থগিত করার পর ছয় সপ্তাহ পার হলেও যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে ও ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের বাড়তে থাকা দামের কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে থাকায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চাপে পড়েছেন।
বুধবার মার্কিন সামরিক ঘাাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “বিশ্বাস করুন, আমরা যদি সঠিক জবাব না পাই, খুব দ্রুতই (হামলা) শুরু হয়ে যাবে। আমরা (হামলা) শুরু করার জন্য প্রস্তুত।”
আর কতোদিন অপেক্ষা করবেন, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “কয়েকদিন হতে পারে, কিন্তু (যুদ্ধ) খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে।”
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারি হতে দেওয়া হবে না, এই প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরান নিয়ে আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। কী হচ্ছে আমরা দেখবো। একটি চুক্তি হবে অথবা আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা একটু নোংরা হবে, তবে আশা করি তা হবে না।”
ইরানে ফের হামলা শুরু করার বিষয়ে সতর্ক করেছে তেহরান। এক বিবৃতিতে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, “যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করা হয়, প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধটি এবার অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হবে আর আমাদের বিধ্বংসী আঘাত তোমাদেরকে এমন সব স্থানে ধ্বংস করবে যা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না।”
রয়টার্স লিখেছে, ইরানের বর্ণনা থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে তারা মূলত সেইসব শর্তেরই পুনরাবৃত্তি করেছে করেছে যা এর আগে ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা ও পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহার।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্স এ এক পোস্টে বলেছেন, “ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তত আছে। কিন্তু বলপ্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা।”
আরও পড়ুন:
ইরানের কাছ থেকে 'সঠিক উত্তর' পেতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক ট্রাম্প