Published : 31 Mar 2026, 06:29 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের যে কোনও সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের নিজেদের শর্ত এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
সোমবার তেহরানে মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে তিনি একথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ইরানের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মহান ইরানি জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে।
পেজেশকিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক অবস্থা এবং জরুরি সেবা বজায় রাখতে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকারিতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং ত্রাণ ও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং জনমনে স্বস্তি বজায় রাখার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
এছাড়া সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম, অবকাঠামো ও উৎপাদন, অর্থনীতি, জনজীবন এবং রাজনৈতিক-সামাজিক, এই পাঁচটি বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের দৈনন্দিন কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও বৈঠকে পেশ করা হয়।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা নিশ্চিত করায় সব খাতের প্রশংসা করেন।তবে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসনামলের’ (ইসরায়েল) এই আগ্রাসনের মুখে জাতীয় সক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান স্তম্ভ হল সমন্বিত জনসেবা। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ধারা বজায় রাখতে হবে।”
দেশ রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান বলেন, তাদের এই প্রতিরোধ জাতির গর্বের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায় হয়ে থাকবে। আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাকে তিনি ‘নির্ণায়ক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন।
গত এক মাস ধরে ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন সংহতি ও বিশাল নৈশ সমাবেশেরও প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট।
তিনি একে জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ এবং বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যার পর ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা অপারেশন হিসেবে অধিকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।