Published : 15 Jul 2026, 02:41 PM
ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে কোন দুজনকে অকার্যকর করতে হবে, খুব ভালো করেই জানেন লিওনেল স্কালোনি। সেমি-ফাইনালের আগের দিন আর্জেন্টিনা কোচ সরাসরিই বলে দিলেন, জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেইনকে নিয়ে শেষ পরিকল্পনা আছে তার।
বেলিংহ্যাম ও কেইনের ভরসাতেই ৬০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ছবি আঁকছে ইংল্যান্ড। সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত এই ভ্রমণের ইংলিশর ছুটেছে মূলত এই চাকায় ভর দিয়েই।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড দলে জায়গা একটু নড়বড়ে ছিল বেলিংহ্যামের। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো খেলার পর বিশ্বকাপে একাদশে জায়গা পাওয়া নিশ্চিত করেন। এরপর মূল আসরে তার যা পারফরম্যান্স, সেটিকে বলা যায় রূপকথা। ছয়টি গোল করে ফেলেছেন এর মধ্যেই। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে বিশ্বকাপে এত গোল করতে পারেননি আর কোনো মিডফিল্ডার। অ্যাসিস্ট করেছেন একটি।
শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে দুটি করে গোল করে তিনিই ছিলেন নায়ক। শুধু গোল করাই নয়, রক্ষণ সামলানো থেকে মাঝমাঠের দায়িত্ব, গোটা মাঠে তার ছিল দাপুটে বিচরণ।
কেইনের মূল কাজ গোল করা এবং সেখানে তিনি যথারীতি সফল। ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম গোলস্কোরারও ছয় গোল করে ফেলেছেন। বেলিংহ্যামের মতো তারও অ্যাসিস্ট একটি।
তাদের প্রতি প্রতিপক্ষ কোচের বিশেষ নজর তো থাকবেই! সেমি-ফাইনালের আগের দিন স্কালোনিও বললেন, ইংল্যান্ডের দুই প্রাণভ্রোমরাকে বন্দি করার ছক তৈরি করেছেন তিনি।
“তারা দুজন অসাধারণ ফুটবলার, বিশ্বের সেরাদের মধ্যে থাকবে। যেকোনো কোচই তাদেরকে দলে পেতে চাইবে।
আমরা আমাদের নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে ওদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করব এবং ওদেরকে ভালো খেলতে দেব না। তাদেরকে আটকানো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে এবং আমরা আশা করি আগামীকাল তা বাস্তবায়ন করতে পারব।”
নকআউট পর্বের তিন ম্যাচেই আর্জেন্টিনাকে ভীষণ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। একেক ম্যাচে একেক পরিস্থিতি উতরে জয় আদায় করেছে তারা। লিওনেল মেসি ও অন্য যারা দলকে এগিয়ে নিয়েছেন একেকটি বাধা উতরে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তাদেরকে একই চেহারায় দেখতে চান কোচ।
“আমাদের তাড়না প্রবল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা তীব্র। ফুটবল খেলতে হবে আমাদেরকে, বল নিয়ে খেলতে হবে, যেটাতে আমরা বরাবরই সবচেয়ে শক্তিশালী।
আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো, ফুটবলারদের সবাইকে, বিশেষ করে যারা আমাদের দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের যেন এই ম্যাচেও একই রূপে দেখা যায়।”