Published : 01 Apr 2026, 02:16 PM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঠিক করা লক্ষ্য অর্জিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত ইরান যুদ্ধ থেকে সরে আসা উচিত বলে মনে করেন দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপকারী সংস্থা ইপসসের করা যৌথ এক জরিপের ফলে এমনটাই উঠে এসেছে।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত হওয়া এ জরিপে ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারীই লক্ষ্য অর্জিত হোক বা না হোক দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ চেয়েছেন। ২৭ শতাংশ বলেছেন, ইরানে সব লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত, তাতে সংঘাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬ শতাংশ এ প্রশ্নের জবাবই দেননি।
ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৪০% যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও যুদ্ধের দ্রুত ইতি টানার পক্ষে। তবে ৫৭% মনে করেন, যুদ্ধ প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী হোক, তাও ইরানকে ধরাশায়ী করতেই হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবকিছুতে পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। এরই মধ্যে প্রায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এ যুদ্ধ কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বাড়ছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।
ইরানে হামলার পেছনে মূল লক্ষ্য কী, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একেকবার এক কথা বলেছে। কখনো বলেছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পরে সেখান থেকে পিছু হটে বলেছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানোই আসল উদ্দেশ্যে। এসবের সঙ্গে ওয়াশিংটন-তেল আবিব মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক শিয়া সশস্ত্রগোষ্ঠীর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধের দাবিও বারবার তুলেছে।
এক হাজার ২১ জনের মধ্যে হওয়া রয়টার্স/ইপসসের এ জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশই ইরানে মার্কিন হামলার ব্যাপারে তাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন, সন্তুষ্ট মাত্র ৩৫ শতাংশ।
যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে চললেও তার ধাক্কা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। সোমবার দেশটিতে এক গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে দামের ওঠানামা নজরে রাখা প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য দেখাচ্ছে; তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে পেট্রলের এমন মূল্যস্ফীতি আর দেখা যায়নি।
আগামী বছর জ্বালানির দাম আরও বাড়বে বলেও জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের দুইজন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর মধ্যে রিপাবলিকানদের ৪০ শতাংশও আছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সেনেটে রিপাবলিকানরা খুবই সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছেন; ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার যে অধোগতি তাতে নভেম্বরে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে কিনা তা নিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলকে আসন হারাতে দেখা যায়। কংগ্রেসের কোনো কক্ষ বা উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কর্মসূচি, প্রশাসনজুড়ে হরেদরে ছাঁটাইসহ ট্রাম্পের নানান নীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি অগ্রহণকারী বলেছেন, ইরান যুদ্ধ তাদের পকেটে টান ফেলবে বলেই তাদের ধারণা; রিপাবলিকানদের মধ্যেই এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা ব্যক্তির সংখ্যা ৩৯ শতাংশ।