Published : 10 May 2026, 09:57 AM
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে এক আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। এ বিস্ফোরণের পর পুলিশ সদস্যদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালায় বন্দুকধারীরা।
পরিস্থিতি সামলাতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয় বলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, শনিবার রাতে বান্নুর শহরতলীর পুলিশ পোস্টে হামলার এ ঘটনা ঘটে। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে স্থাপনাটির ছাদ ধসে পড়ে ও সেখানে থাকা ১৫ পুলিশ সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বান্নু জেলার ফাতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।
সন্ত্রাসীরা একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ফাঁড়িটিতে ধাক্কা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।
সাজ্জাদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ফাঁড়িটিতে মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন নিহত ও অপর তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করে ও বিভিন্ন দিক থেকে ফাঁড়িটিতে আক্রমণ চালায়। এরপর থেকে ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েকটি সূত্র ডনকে জানায়, হামলার পর ফাতেহ খেলের ওই পুলিশ ফাঁড়িটি সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে ফাঁড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই ফাঁড়িতে থাকা একটি সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতার কারণে আশপাশের ভবনগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী সংস্থা ও সরকারি হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামে পরিচিত একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “সন্ত্রাসীরা প্রথমে বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। এরপর জঙ্গিরা ওই ফাঁড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। আক্রান্ত পুলিশদের সাহায্য করতে অন্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়, কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলায় চালায় আর তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।”
এই হামলায় জঙ্গিরা ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে পুলিশের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে।

আরপিও সাজ্জাদের নেতৃত্বে বান্নু পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ বান্নু শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আর অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলোর সমর্থনে এগিয়ে এসেছে বলে খবর গণমাধ্যমের।
উদ্ধারকারী বাহিনী ১১২২ এর দলগুলো ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এ হামলার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে বান্নু জেলায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। জঙ্গি সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর মতো বেসামরিক বাহিনীগুলোও বারবার হামলার মুখে পড়ছে।
রয়টার্স লিখেছে, জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সীমান্তে আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াই আবার শুরু হয়ে যেতে পারে। এক সময়ের মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া এই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক লড়াই হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। তখন আফিগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছিল, জঙ্গিদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যস্থল করেছে তারা।
তারপর থেকে লড়াই অনেকটা থেমে থাকলেও কখনো কখনো সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ পযন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার ছক কষছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে মন্তব্য করেছে।