Published : 21 Apr 2026, 04:25 PM
মার্কিন সেনাদের হাতে আটক ইরানি পতাকাবাহী জাহাজটি সম্ভবত এমন কিছু বহন করছিল, যেগুলো ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ‘দ্বৈত ব্যবহার্য’, অর্থ্যাৎ চাইলে সামরিক কাজেও সেগুলোকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক সূত্র সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছে।
রোববার মার্কিন বাহিনী ইরানি কনটেইনার জাহাজ ‘তৌস্কা’-কে আটক করে। এটি ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান শিপিং লাইনসের (আইআরআইএসএল) অংশ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রোববার ওমান উপসাগরে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে মার্কিন সেনারা জাহাজটিতে ওঠে এবং তাতে তল্লাশি চালায়। জাহাজটি সর্বশেষ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৮-এ সমুদ্রে তার অবস্থান কোথায় তা জানিয়েছিল, বলছে মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মে নৌযান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্যউপাত্ত।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলছে, তৌস্কার ক্রু-রা তাদের নির্দেশ মানেনি। জাহাজটিকে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বার বার সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও তারা মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করেছে।
জাহাজটি দ্বৈত ব্যবহার্য পণ্য বহন করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বলেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
দ্বৈত ব্যবহার্য মনে হওয়া পণ্য জাহাজটি আগেও বহন করেছে, বলছে একটি সূত্র।
এখন জাহাজটিতে কী ধরনের ‘দ্বৈত ব্যবহার্য’ পণ্য আছে, সে সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছু বলেনি সূত্রগুলো। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জব্দ করা হতে পারে এমন পণ্যের যে তালিকা দিয়েছে—তাতে ধাতু, পাইপ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের মতো উপকরণও আছে। এসব জিনিস শিল্প কারখানায় যেমন লাগে, তেমনি সেনাবাহিনীও ব্যবহার করতে পারে।
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের উপকূলের কাছেই ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ তৌস্কায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
তারা একে ‘বেআইনি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে নিন্দাও জানিয়েছে বলে জানায় ইরানি গণমাধ্যমগুলো।
তেহরান ওই নৌযান, তার নাবিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের তাৎক্ষণিক মুক্তি দাবি করে বলেছে, জাহাজে হামলার ঘটনাটি চলতি মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়লে তার দায় ওয়াশিংটনকে নিতে হবে বলেও সতর্ক করেছে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র দস্যুতার’ শিকার এই জাহাজটি চীন থেকে ফিরছিল।
ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা মার্কিন বাহিনীকে এই ‘নির্লজ্জ আগ্রাসনের’ জবাব দিতে প্রস্তুত, কিন্তু জাহাজে ক্রু’দের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কারণে তারা সংযত রয়েছে।
ওয়াশিংটন ২০১৯ সালের শেষদিকে আইআরআইএসএলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই জাহাজ কোম্পানিটি ‘ইরানি অস্ত্র সংগ্রাহক ও বিস্তারকারীদের পছন্দের’ শিপিং লাইন, এটি যেসব পণ্য পরিবহন করে আসছে তার মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নানান উপকরণও আছে, নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে সেসময় বলেছিল ওয়াশিংটন।
তৌস্কার ক্যাপ্টেন ইরানি, ক্রু’দের মধ্যেও ইরানিরা আছে, তবে এর সব ক্রু-ই ইরানি নাগরিক কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলছে সূত্রগুলো।
আইআরআইএসএলের জাহাজগুলো ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণে থাকে; ইরানের নাগরিকরাই সাধারণত এসব জাহাজে ক্রু হিসেবে থাকে, কখনও কখনও তারা পাকিস্তানি নাবিকদেরও কাজে লাগায়, বলছে দুটি সূত্র।
গত ২৫ মার্চ তৌস্কা ছিল সাংহাইয়ের উত্তরে চীনের তাইচ্যাং বন্দরের কাছে, ২৯ বা ৩০ মার্চের দিকে এটি চীনের দক্ষিণের গাওলান বন্দরে পৌঁছায় বলে উপগ্রহের ছবি পর্যালোচনা করে বলছে মার্কিন সংস্থা সিনম্যাক্সের তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞরা।
গাওলানে বিপুল পরিমাণ মালামালবোঝাই কনটেইনার তোলার পর ১১-১২ এপ্রিলের দিকে তৌস্কা মালয়েশিয়ার ক্লাং বন্দরের কাছে নোঙর করে এবং সেখান থেকেও কিছু কনটেইনার তোলে, বলছে সিনম্যাক্সের বিশ্লেষণ।
রোববার ওমান উপসাগরে যখন পৌঁছায় তখন জাহাজটি কনটেইনারে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।
ইরানি পতাকাবাহী এ কার্গো জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র ‘জোরপূর্বক আটক’ করায় চীন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সোমবার জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যেন দায়িত্বশীল উপায়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলে, সে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের অতীত ইতিহাসের’ কারণে তৌস্কা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। জাহাজটিতে কী কী আছে মার্কিন বাহিনী এখন তা খতিয়ে দেখছে।
লিংক হবে-
ইরানি জাহাজ আটক যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন আলোচনার 'পরিকল্পনা নেই' বলল তেহরান