Published : 11 Jun 2026, 09:30 AM
হামে আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের ৪৫ শতাংশের বেশি এসেছে তিনটি উপজেলা দেবিদ্বার চান্দিনা ও মুরাদনগর থেকে।
ফলে জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত এই তিনটি উপজেলাকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসকরা।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, “আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে কুমিল্লার কোন উপজেলা থেকে কতজন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে তা বের করেছি। এর মধ্যে দেখা গেছে মুরাদনগর, দেবিদ্বার ও চান্দিনা এই পাশাপাশি এলাকাগুলোতে হাম আক্রান্ত শিশুসংখ্যা সবচেয়ে বেশি।”
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটের তথ্য মতে, চলতি বছর হামের সংক্রমণ শুরুর পর মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১০ জুন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে মোট ১ হাজার ৪৫৮ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন।
এসব শিশুর মধ্যে কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা ১ হাজার ২০৯ জন। আর ২৪৯ জন এসেছে জেলার বাইরে থেকে।
চিকিৎসা নিতে আসা কুমিল্লার বাসিন্দা শিশুদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশিই এসেছে দেবিদ্বার উপজেলা থেকে, ২৬০ জন। এরপরেই বেশি শিশু এসেছে দেবিদ্বারের পার্শ্ববর্তী উপজেলা চান্দিনা থেকে ১৫৪ জন এবং অপর পার্শ্ববর্তী উপজেলা মুরাদনগর থেকে ১৪০ জন।

অন্য উপজেলাগুলোর মধ্যে আদর্শ সদর ১০০ জন, সদর দক্ষিণ উপজেলা ৫৩ জন, বরুড়া উপজেলা ৭৫ জন, ব্রাহ্মণ পাড়া উপজেলা ৫২ জন, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৮৪ জন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ৩৭ জন, লালমাই উপজেলা ২৯ জন, তিতাস উপজেলা দুইজন, হোমনা উপজেলার ১৯ জন, লাকসাম উপজেলা ৬৭ জন, বুড়িচং উপজেলার ৩৬ জন, দাউদকান্দি উপজেলার ১৫ জন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ জন এবং মেঘনা উপজেলার একজনও নেই।
এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ছয় শিশু। অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে ১৪ জনকে।
অধ্যাপক মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, “চান্দিনা-দেবিদ্বার-মুরাদনগর এই অঞ্চলটিকে যদি একটি 'হটস্পট' ধরা হয়, তাহলে এই স্পট থেকেই ৪৫ শতাংশের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এসব রোগীর বয়স ছয় মাস থেকে দুই বছর।”
তিনি আরও বলেন, “জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় চাইলেই এই অঞ্চলটির প্রতি আলাদা সচেতনতামূলক কার্যক্রম ঘোষণা করতে পারে। সেখানে টিকা নেয়ার হার কেমন কিংবা টিকা না নেয়ার প্রবণতা কেমন সেই বিষয়গুলো বের করে আলাদাভাবে পদক্ষেপ নিলে হামের সংক্রমণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।”
“এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও চাইলে ওই এলাকার হাম সংক্রমণ কমিয়ে আনতে কাজ করতে পারেন।”

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে
এদিকে কুমিল্লা স্বাস্থ্য বিভাগ আলাদাভাবে কোন এলাকাগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি সে নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, ১০ জুন পর্যন্ত কুমিল্লায় মোট ১ হাজার ৭৪৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৫৭ জন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরমধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১১৫ জন। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১১ শিশুর।
এসব রোগী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও তার উপজেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেননি।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুহিবুস সালাম খান, “আমার উপজেলা হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসে আমি তাদের তথ্য জানি। এলাকার অন্য রোগীদের তথ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দিতে পারবে। “
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “আমাদের উপজেলায় যারা চিকিৎসা নিতে আসে আমরা তাৎক্ষণিক সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেই। তবে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা কত তা জানা নেই।”

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি তথ্য সংগ্রহের।”
জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “কোন কোন এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি তা বের করা না হলেও, সব জায়গায় হামের সংক্রমণ সমান।”
আর সার্বিক বিষয় নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “দেবিদ্বার, চান্দিনা ও মুরাদনগর এই তিন উপজেলাতে কেন হামের সংক্রমণ বেশি এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জানতে চাওয়া হবে।
“সেখানে টিকা নেওয়ার হার কিংবা টিকা থেকে বাদ পড়ার হার কেমন সে বিষয়গুলোও আমরা জানতে চাইব। হামের সংক্রমণ কমিয়ে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। ”