Published : 12 Jun 2026, 01:27 PM
মনে হচ্ছিল আরেকটি ছক্কা হয়েই যাবে। তবে এবার হলো না একটুর জন্য। সাব্বির হোসেনের বলে সাব্বির রহমানের দারুণ ক্যাচে বিদায় নিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। এক রানের জন্য ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর ছুঁতে পারলেন না তিনি, দুই রানের জন্য হলো না জুটির রেকর্ড। কিন্তু ততক্ষণে যা করে ফেলেছেন তাতেই তছনছ আবাহনীর বোলিং আক্রমণ।
অন্য প্রান্তে এনামুল হকও কম গেলেন না। সেঞ্চুরি পেরিয়ে তিনিও এগিয়ে গেলেন অনেকটা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ত্রিমুখী শিরোপা লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর দিনে জ্বলে উঠলেন এই দুজন। এবারের লিগের শেষ ম্যাচে এসে দুজনই পেলেন প্রথম শতরানের স্বাদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে বিশাল স্কোর গড়ল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
বিকেএসপিতে শুক্রবার ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১১৫ বলে ১৪১ রানের ইনিংস খেলেন আবাহনীর ওপেনার এনামুল।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার ২৫তম সেঞ্চুরি এটি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তামিম ইকবালকে (২৪) ছাড়িয়ে সববার ওপরে এখন এনামুল।
তিনে নেমে পারভেজ করেন ১১৬ বলে ১৫০। তার ইনিংসে চার ১০টি, ছক্কা ১২টি!
দুজনের সেঞ্চুরির পর আফিফ হোসেনের ঝড়ো ফিফটিতে (৩৩ বলে ৬১) মোহামেডান ৫০ ওভারে তোলে ৪ উইকেটে ৪০৬ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো দল চারশ ছুঁতে পারল মাত্র দ্বিতীয়বার।
এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত এবারের লিগে পারভেজের ব্যাট ছিল প্রায় ঘুমিয়ে। একটি মোটে ফিফটি করতে পেরেছিলেন তিনি। ৮ ম্যাচে ১৪৯ রান করেছিলেন ৭০.৬১ স্ট্রাইক রেটে। এবার এক ম্যাচেই ছাড়িয়ে গেলেন তিনি আগের সব ম্যাচের মোট রানকে।
এনামুলের ফর্ম তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ছিল। আগের ৯ ম্যাচে ৩৩২ রান করেছিলেন তিনি ৪১.৫০ গড় ও ১০৩.১০ স্ট্রাইক রেটে। তার পরও হতাশার কারণ ছিল তাকে ঘিরে। প্রিমিয়ার লিগে যেখানে সাধারণত রানের জোয়ার বইয়ে দেন, সেঞ্চুরি পর সেঞ্চুরি করে থাকেন। এবার ছিল স্রেফ চারটি ফিফটি। শেষটা অন্তত নিজের চেনা রূপে করতে পারলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস জিতে বোলিং নিয়েই বিপদে পড়ে যায় আবাহনী। ম্যাচের প্রথম ওভারেই ইকবাল হোসেন ইমনকে দুটি চার একটি ছক্কা মারেন এনামুল।
আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ আউট হয়ে যান ১৭ বলে ১১ রান করে। এরপর পাল্লা দিয়ে ছুটতে থাকেন এনামুল ও পারভেজ।
শুরুতে বেশি গতিময় ছিলেন এনামুল। তিনি ফিফটি করেন ৪৪ বলে, পারভেজ ৫৩ বলে।
এরপর ঝড়ের বেগে শতরানের দিকে এগিয়ে যান এনামুল। তিনি যখন ৯০ স্পর্শ করেন, পারভেজের রান তখন ৬১।
তবে নব্বইয়ে পা রেখে অনেকটাই গুটিয়ে যান এনামুল। সেঞ্চুরির জন্যই কি না, বেশ সতর্কতার পথ বেছে নেন এই ওপেনার। পরের ১০ রান করতে ১৭ বল লেগে যায় তার। এই সময়টায় চার-ছক্কার স্রোতে সঙ্গীকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেন পারভেজ।
৩৩ ওভার শেষে এনামুলের রান ছিল ৯১ বলে ৯৭, পারভেজের ৯১ বলে ৯৫।
সেখানেই জীবন পান পারভেজ। মারুফের মৃধার বলে শর্ট মিড উইকেটে তার ক্যাচ ছাড়েন আবাহনী অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
শেষ পর্যন্ত আগে শতরানে পৌঁছান এনামুলই। মারুফ মৃধার বলে বাউন্ডারিতে ৯২ বলে আসে তার শতরান।
পরের ওভারেই মাহফিজুর রহমান রাব্বির বল ছক্কায় উড়িয়ে পারভেজ তিন অঙ্কে পা রাখেন ৯৯ বলে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার সপ্তম শতরানের ইনিংস এটি।
সেঞ্চুরির পর দুজনের ব্যাট উত্তাল হয়ে ওঠে আরও। বিশেষ করে পারভেজ যেন টর্নেডো বইয়ে দেন। শতরানের পর দেড়শ পর্যন্ত যেতে স্রেফ ১৫ বল লাগে তার।
লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৫১ রানের। কিন্তু থমকে যান এবার ১৫০ রানেই।
দুজনের জুটিতে আসে ২০২ বলে ২৪৮ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি ২৫০ রানের। গত বছরের লিগে যেটি করেছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাহফিজুল ইসলাম রবিন (১১৪) ও মিজানুর রহমান (১৩৬*)।
এনামুল ১৩৩ রানে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত উড়িয়ে মারার চেষ্টায় কাটা পড়েন ১৪১ রানে।
শীর্ষ বোলারদের বেশ কজনকে না পেয়ে আবাহনীর বোলিংয়ের শক্তি কমে যায় অনেকটাই। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে প্রচণ্ড গরমে যেন বল ফেলার জায়গাই পাচ্ছিলেন না তাদের বোলাররা।
মোহামেডান শেষ পর্যন্ত থামে ৪০৬ রানে। দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এর চেয়ে বড় স্কোর আছে স্রেফ একটি। গত বছর ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৪২২ রান তুলেছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
লিস্ট ‘এ’ জমানায় মোহামেডানের আগের সর্বোচ্চ ছিল তিন বছর আগে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ৩৪৮।