Published : 10 Jun 2026, 10:32 PM
ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে নতুন করে চালু করতে মঙ্গলবার দুটি আলাদা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে তুরস্ক ও সৌদি আরব। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগে সহযোগিতা এবং সংযোগ আরও বাড়বে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরি করাই এর লক্ষ্য।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার কারণে হেজাজ রেলওয়ে প্রকল্পে জোর দিচ্ছে দুই দেশ। এই রেলপথটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে সংযুক্ত করবে।
চুক্তি সইয়ের জন্য তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোলু মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সফর করেন। সৌদি আরব এই চুক্তি সইয়ের ফলে পরোক্ষভাবে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়ায় জড়িত হল।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের অনুষ্ঠানে তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে আমাদের অঞ্চল একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে। এ সময়ে বাণিজ্য ও লজিস্টিক চেইনের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে পরিবহন খাতের বাধা দূর করা একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।”
তিনি জানান, আঙ্কারার লক্ষ্য সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের মধ্য দিয়ে এই পরিবহন পথ সচল করা। তুরস্ক থেকে শুরু করে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল এই পথের সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে।
তুরস্ক গত বছর থেকেই হজাজ রেলওয়ে সচল করতে চাওয়ার কথা বারবার বলে আসছে। ঐতিহাসিক এই রেলপথ একসময় ইস্তাম্বুল থেকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
এখন দীর্ঘমেয়াদে এই রেলপথ ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য কারডোর প্রতিষ্ঠা করা।
এটি সফল হলে তুরস্ক উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের মধ্যে একটি বড় ট্রানজিট হাব, রেলওয়ে লজিস্টিক ঘাঁটি এবং বাণিজ্য করিডোরের মূল সংযোগস্থলে পরিণত হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করতে একই ধরনের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছিল তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান। সেই চুক্তিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথসহ সব ধরনের পরিবহনে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
ঐতিহাসিক হেজাজ রেলপথটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা। ১৯০০ সালে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সঙ্গে সৌদি আরবের মক্কার সংযোগ স্থাপনের জন্য এই রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেজাজ অঞ্চলের নামানুসারে এই রেলপথের নামকরণ করা হয়, যেখানে দুটি পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুদানের অর্থ দিয়ে এই রেলপথ তৈরি করা হয়েছিল।
ইস্তাম্বুলের সঙ্গে যুক্ত মূল লাইনটি সিরিয়ার দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এর একটি শাখা লাইন ফিলিস্তিনের হাইফা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হামলার কারণে এই রেলপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী অকার্যকর থাকার পর, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে তুরস্ক এবং সৌদি আরব রেলপথটি সচল করতে এগিয়ে এসেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই