Published : 20 Apr 2026, 08:29 PM
হরমুজে অবরোধ ভেঙে অগ্রসর হওয়ার অভিযোগে একটি বিশাল ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তা আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
ইরান এর পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং নতুন দফা শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, আপাতত তাদের আলোচনার কোনও পরিকল্পনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের জাহাজ আটক অভিযানের কথা জানান।
ট্রাম্পের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী মার্কিন রণতরী ‘স্প্রুয়ান্স’ থেকে জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।
ফলে মার্কিন বাহিনী জাহাজটি লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং এতে সেটির ইঞ্জিন রুমে গর্ত হয়ে যায়। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
জব্দকৃত জাহাজটির নাম ‘তৌস্কা’। ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী, ৯০০ ফুট লম্বা এই জাহাজটি আকারে প্রায় একটি বিমানবাহী রণতরীর সমান।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই জাহাজটি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালানোর বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের পরবর্তী দফা আলোচনায় বসার কোনও পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। আমরা এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আছি। এটি সত্য যে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই বারবার লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোন করে ওয়াশিংটনের ইরানি জাহাজ দখলকে ‘আগ্রাসন’ ও ‘অযৌক্তিক আচরণ’ আখ্যা দিয়ে এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আমেরিকার এই কার্যকলাপ ‘কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’। এ ধরনের আচরণের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার পরিবেশ থাকে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের রাষ্ট্র টিভি নিউজ চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে তেহরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফা শান্তি আলোচনায় বসার কোনও পরিকল্পনা নেই।
চলমান নৌ অবরোধ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধামকি আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি শ্লথ করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের পথে থাকলেও ইরানি জাহাজ আটকের ঘটনার পর নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।
পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স যদিও সেখানে যাচ্ছেন এবং আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতিও ইসলামাবাদে চলছে।
কিন্তু ইরানের বৈঠক বয়কটে শান্তি আলোচনা আদতে নাও হতে পারে তেমন আভাসই মিলছে।
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবিদাওয়া’ এবং ‘সশস্ত্র ছিনতাইয়ের’ মতো আচরণের মুখে বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।
তেহরানের অভিযোগ, চীন থেকে পণ্য নিয়ে আসার সময় তাদের জাহাজটি অন্যায়ভাবে জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান শর্ত না মানলে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
জবাবে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির শেষ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ফের চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে।