Published : 07 Jul 2026, 10:13 PM
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার; কিন্তু তার বাবা চান না ছেলের ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হোক। আবেগঘন চিঠিতে নেইমারকে ‘খেলা চালিয়ে যেতে’ ও ‘আনন্দ ফিরে পেতে’ অনুরোধ করেছেন তিনি।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত রোববার শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর, জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেন নেইমার। ম্যাচটিতে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৮০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
নেইমারের বাবা নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র, যিনি তার এজেন্টও, সোমবার ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন চিঠি পোস্ট করেন।
“ওহ, বাছা আমার... কী অসাধারণ এক যাত্রা। কী সুন্দর এক পথ। কঠিন। অনেক সময়ই বেদনাদায়ক, কিন্তু আশীর্বাদে পূর্ণ। আজকের একটি সিদ্ধান্ত তোমার পুরো গল্পকে তুলে ধরবে না। স্বপ্ন এখনও সত্যি না হওয়া মানে এই নয় যে, সেটি শেষ হয়ে গেছে। গল্পের শেষটা কখনও কোনো কঠিন মুহূর্ত দিয়ে নির্ধারণ হয় না…।”
২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশের হয়ে খেলার সময় গুরুতর চোটে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়েন নেইমার। সেই থেকে চোট যেন ছিল তার নিত্যসঙ্গী। কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি, মাঝেমধ্যে ক্লাবে ফিরলেও খেলতে পারেননি টানা।
গত বছর মে মাসে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর, বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত কখনোই নেইমারকে দলে ডাকেননি তিনি। কিন্তু অবাক করে দিয়ে, বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের দলে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে রাখেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ। তবে পেশির চোটের কারণে আসরে ব্রাজিলের পাঁচ ম্যাচের মাত্র দুটিতে বদলি হিসেবে খেলতে পারেন তিনি।
নরওয়ের বিপক্ষে সফল স্পট কিকে দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন নেইমার। প্রথমজন পেলে।
চিঠিতে বাবা হিসেবে ছেলের কাছে একটি আর্জি তুলে ধরেন নেইমার সিনিয়র।
“ওকে তার প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বেড়ে উঠতে দেখেছি। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, আমি ট্রফি, গোল, চুক্তি বা স্বীকৃতির চেয়েও অনেক বেশি কিছু দেখতে পাই। আমি অলৌকিক ঘটনা দেখি। নিবেদন দেখি। প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ হতে দেখি।
“আর যখন সামনে তাকাই, আমি নিশ্চিতই থাকি। সেরাটা বয়স বা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। একজন বাবা হিসেবে তোমাকে একটি অনুরোধ করতে চাই। বাছা, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও।”
নেইমারকে আবার আনন্দ খুঁজে নিতে বললেন তার বাবা।
“পায়ে বল থাকার আনন্দটা আবার খুঁজে বের করো। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ। ঈশ্বর তোমাকে সেই কাজটি করার আরও একটি সুযোগ দিয়েছেন, যেটাকে তুমি ভালোবাসো। ফুটবল উপভোগ করো। সিদ্ধান্ত, সমালোচনা, প্রত্যাশা বা জীবনের নানা বাধা-বিপত্তির ভার নিজের কাঁধে বয়ে বেড়িয়ো না।
“ভবিষ্যৎকে ভয় পেয়ো না। আজকের জন্য বাঁচো। অনুশীলন করো। হাসো। ফুটবল খেলো। আবারও মানুষকে আনন্দ দাও। শৈশব থেকে ঈশ্বর তোমার হাতে যা তুলে দিয়েছেন, তাই করো। আর কখনও ভুলো না যে, পৃথিবী তোমাকে প্রশংসা করারও আগে থেকে, তুমি সবসময় ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেয়েছো।”